রোমাঞ্চকর শঙ্করদা

Life24 Desk   -  

সবুজ গাছে ঢাকা পাহাড়, তার মাঝে নদীর কলকল শব্দ আর পাখির ডাক। এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর পরিবেশ উপভোগ করতে যদি চান তাহলে অবশ্যই যেতে হবে দলমা পাহাড়ের কোলে শঙ্করদা। নামটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও জায়গাটা কিন্তু বেশ। কলকাতার খুব কাছে অথচ সেই ভাবে এখনো পরিচিতি পায়নি, তাই মানুষের ভিড় কোলাহল এখনো এর স্নিগ্ধ পরিবেশকে স্পর্শ করতে পারেনি। আর নির্জনতা যাদের প্রিয় তাদের মনকে ছুঁয়ে যাবে শঙ্করদা। শীতকালে এক শনিবারের সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে হাওড়া থেকে উঠে পড়ুন হাওড়া বরবিল জনশতাব্দি এক্সপ্রেসে, আর ১০টা নাগাদ টটাটানগর পৌঁছে যান।

রিসর্ট আগে থেকে বুক করা থাকলে স্টেশনের বাইরেই পেয়ে যাবেন আপনার রিসর্টের গাড়ি। গাড়ি আপনাকে স্টেশন থেকে চাইবাসা রোড ধরে রাস্তার দু-ধারের পাহাড়কে সঙ্গী করে অপূর্ব এক প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে দিয়ে নিয়ে চলে যাবে শহুরে জনপদ থেকে দূরে কুদাদা গ্রাম পর্যন্ত। চাইবাসা রোড চাইবাসা, বাংরিপোশি  পেরিয়ে সোজা চলে গেছে বরবিল পর্যন্ত। কুদাদা গ্রামের পর চাইবাসা রোড ছেড়ে আঁকাবাঁকা কাঁচা রাঙামাটির রাস্তা ধরে গাড়ি ছুটে চলবে ছোটো ছো্টো গ্রামের মধ্যে দিয়ে। গ্রাম্য রাস্তার দু-ধারের ধানক্ষেত, মাটির ঘর বাড়ি, স্কুল, অজস্র পুকুর, পুকুরে ফুটে থাকা শাপলা, পদ্ম ও পুকুরের জলে আলোড়নতোলা ছোটো ছো্টো বাচ্চাদের লাফালাফি ও এসবের পটভূমিতে একটু দুরের দলমা পাহাড় আপনার শহরের কেজো জীবনে ক্লান্ত মনকে আকৃষ্ট করবে। গ্রাম্য পরিবেশের মজা নিতে নিতে আধ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন রিসর্টে।

প্রকৃতির কোলে ৫ একর জমিতে তৈরি দ্য উইকেন্ড রিসর্ট-এর চারপাশটিও খুব সুন্দর। রিসর্টের থেকেই দেখা যায় দলমা পাহাড়ের রেঞ্জ। রিসর্টের ছোট্ট পুকুরে মাছের ঝাঁকের সাথে সাথে চড়ে বেড়ানো রাজহাঁসের দল মন ভালো করে দেবে। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরনের গাছে সাজানো সুন্দর বাগান আর বাচ্চাদের খেলার জন্য দোলনা, স্লিপ ইত্যাদি। ভাগ্য ভালো থাকলে কখনও সখনও দেখা পেয়ে যেতে পারেন রিসর্টের চারপাশ দিয়ে ঘুরে বেড়ানো, দলমা পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতির দলেরও। একশো বছর মতো আগে এই গোটা অঞ্চলটাতে জঙ্গল ছাড়া কিছুই ছিল না। গ্রামগুলিরও কোনো অস্তিত্ব ছিল না। লোকমুখে শোনা, শঙ্কর নামে এক ব্যক্তি প্রথম এখানে জঙ্গল কেটে বসতি, চাষবাস ইত্যাদি শুরু করেন। সাঁওতালরা ভালবেসে তাঁকে শঙ্করদা বলে ডাকত  আর সাঁওতালদের প্রিয় শঙ্করদার নামেই আজ এই জায়গার নাম শঙ্করদা।

একটু বিশ্রাম নিয়ে স্নান করে, দুপুরের খাওয়া সেরে বেড়িয়ে পড়ুন প্রকৃতির কোলে গা ভাসিয়ে দিতে। এই অঞ্চলে প্রধানত সাঁওতালদের বসবাস। গাড়িতে করে চলে যান পাশের সাঁওতাল গ্রামগুলি ঘুরতে। রিসর্টের সবচেয়ে কাছের সাঁওতাল গ্রাম কাসিডি। তাই প্রথমে ঢুকে পড়ুন কাসিডি গ্রামেই। সাঁওতাল গ্রামবাসীদের মাটির বাড়ি, আর মাটির বাড়িগুলির সুন্দর অলঙ্করণ বেশ চোখ টানবে। গ্রামবাসীদের অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন   জীবন তাদের মনটাকে কলুসিত হতে দেয়নি। পথের মোড়ে ইতিউতি দেখবেন কৌতূহলী গ্রামবাসীরা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আপনার দিকে। কথা বলতে শুরু করলেই দেখবেন মুহূর্তে ভারি কাছের হয়ে গেছে এই মানুষগুলো। পৌষসংক্রান্তিতে এখানে ‘টুসু’ পরব উপলক্ষ্যে উৎসব হয়। আর ফাল্গুন মাসে ‘বাহা’ পরবে মেতে ওঠেন এই অঞ্চলের মানুষজন। সে সময়ে যদি উপস্থিত থাকতে পারেন, তবে তা হবে এক উপরি পাওনা। কাসিডি গ্রামের পর চলে যান অপূর্ব প্রকৃতির কোলে দলমা রেঞ্জের নারোয়া পাহাড়ের পাদদেশে পাথরভাঙা গ্রামে। সবুজ গাছপালায় মোড়া নারোয়া পাহাড় আর তার ঠিক নীচেই বড়ো বড়ো পাথরের চারপাশ দিয়ে কুলকুলকরে বয়ে যাচ্ছে সুন্দরগড়া নদী। নারোয়া পাহাড় পেরিয়ে এই গড়া নদী গালুডির কাছে মিশেছে সুবর্ণরেখা নদীতে। এখানে এসে উপলব্ধি করবেন আপনি ছাড়া অন্য কোনও জনমানবও নেই ত্রিসীমানায়  নদীর জলের কুলকুল শব্দ আর পাখির ডাক ছাড়া আর কোনও শব্দও নেই গোটা জায়গাটায়, আর সেই শব্দই যেন এখানকার নির্জনতার সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

এই নারোয়া পাহাড় উচ্চমানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আর এখানেই আছে ইউরেনিয়াম উত্তোলনের খনি। এরপর গাড়ি নিয়ে নারোয়া পাহাডের চারপাশ দিয়ে গোল করে ঘুরে পৌঁছে যান নারোয়া পাহাড়ের অন্য প্রান্তে। বেশ কয়েকটি ছোটো ছো্টো গ্রাম পেরিয়ে বিখ্যাত রংকিনীমাতার মন্দির দর্শন করে জাদুগোড়া মোড় থেকে ঘাটশিলা যাবার রাস্তার উলটো দিকের রাস্তা ধরে চলে যান গড়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে। এখান থেকে বহুদুর পর্যন্ত গড়া নদীর সর্পিল গতিপথ দেখা যায়। সেতুর কিছুটা আগের বা দিকের কাঁচা সড়ক দিয়ে ঢুকে চলে যান নদীর একদম কাছে পিকনিক স্পটে। এখানেই সন্ধ্যা নামা পর্যন্ত কাটিয়ে, নারোয়া ইউরেনিয়াম খনির গেটের সামনের রাস্তা দিয়ে ফিরে যান রিসর্টে।

রবিবার দিন শঙ্করদার স্নিগ্ধ ভোরকে উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়ুন প্রাতঃভ্রমনে। শীতের ভোরে গ্রাম্য হাওয়া সারা গায়ে মেখে, ঘাসের উপর চকচকে শিশির বিন্দুর মজা নিয়ে ফিরে এসে প্রাতঃরাশ সেরে গাড়ি নিয়ে চলে যান জামশেদপুরের দিকে। জামশেদপুরে ডিমনা লেক, জুবিলি পার্ক, চান্ডিল ড্যামে সারাদিন ঘুরে এক সুন্দর অভিজ্ঞতা অর্জন করে সন্ধ্যায় ফিরে আসুন রিসর্টে।

সোমবার দিন দুপুরের জনশতাব্দী ধরে ফিরে আসুন কলকাতায়।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।