অভিনন্দন ফিরলেন, শান্তি কি ফিরল?

Life24 Desk   -  

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯। পুলওয়ামায় জঙ্গিগোষ্ঠী জইশের ঘটানো বিস্ফোরণে শহিদ হয়েছিলেন ৪০-এর বেশি সিআরপিএফ জওয়ান। গোটা দেশ এর বদলা চাইছিল। রক্ত গরম হয়ে গিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯। ভোর সাড়ে তিনটের সময় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক করল বায়ুসেনার ১২টি মিরাজ যুদ্ধবিমান। বদলা সম্পূর্ণ। খতম করা হল কমপক্ষে ৩৫০ জঙ্গিকে। ধ্বংস করে দেওয়া হল জইশের বেশকিছু জঙ্গি ঘাঁটি।

গোটা বিশ্ব বুঝতে পারল, ভারত পারে। কূটনৈতিক দিক দিয়ে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করা শুরু করল ভারত। কিন্তু পাকিস্তান শিক্ষা নিল না এয়ার স্ট্রাইক থেকে। ক্রমাগত সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করতে লাগল। জবাব দিল ভারতও। এমনকী ২০টি পাক যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণরেখা পার করে ঢুকল ভারতে। জবাব দিতে যুদ্ধবিমান তৈরি ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার। পাকিস্তানের যুদ্ধ বিমান এফ-১৬-কে ধ্বংস করল ভারতীয় মিগ-২১। পাক যুদ্ধবিমানকে তাড়া করতে গিয়ে মিগ-২১ ঢুকে পড়ে পাকিস্তানে।

ওই বিমানের উইং কমান্ডার ছিলেন অভিনন্দন বর্তমান। পাক সীমান্ত পেরিয়ে সেদেশে প্রবেশ করায় ভারতের যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামায় পাক সেনা। কিন্তু বুদ্ধির জোরে প্রাণে বেঁচে যান আমাদের বীর যোদ্ধা অভিনন্দন। তাঁকে আটক করে পাকিস্তান। তবে তাঁর মুখ থেকে একটিও গোপন তথ্য বের করতে পারেনি পাক সেনা।

ভারতের কাছে থবর আসতেই অভিনন্দনকে দেশে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করে কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে ভারত। গোটা বিশ্ব পাশে দাঁড়ায় আমাদের। ভারতের থেকে পাকিস্তানকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, অভিন্দনকে ফিরিয়ে আনতে কোনওরকম আপোস করবে না তারা। একরকম চাপে পরে পিছু হটতে বাধ্য হয় ইমরান খানের সরকার। পাক প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন, অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে ভারতে। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে বীর যোদ্ধাকে ফেরানো হবে দেশে। গোটা দেশ খুশিতে মেতে ওঠে।

সকাল থেকেই পাঞ্জাবের ওয়াঘা সীমান্তে ভিড় জমান দেশবাসীরা। ভারতের পতাকা নিয়ে তাঁকে সম্মান জানাতে তখন সবার মুখে মুখে শুধুই অভিনন্দন। প্রথমে ইসলামাবাদ থেকে লাহৌরে সড়ক পথে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ নিয়ে আসা হয় ওয়াঘা-আতারি সীমান্তে। অভিনন্দনকে স্বাগত জানাতে বিকেলেই হাজির হন সেনা ও এয়ারফোর্সের শীর্ষ আধিকারিকরা। অভিনন্দনকে স্বাগত জানাতে এয়ার ভাইস মার্শাল আর জি কে কপূর হাজির হয়েছেন।এ দিন সকালেই সীমান্তে পৌঁছে যান অভিনন্দনের বাবা এয়ার মার্শাল এস বর্তমান এবং মা শোভা বর্তমান।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, অসীম সাহসের পরিচয় দিয়েছেন অভিনন্দন বর্তমান। ১৯৭০ সালে তৈরি পুরনো মিগ-২১ নিয়ে অত্যাধুনিক পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬কে তাড়া করে সে দেশে ঢুকে পড়েন তিনি। এর জন্য অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য তাঁর। কিন্তু শত্রুদেশের হেফাজত থেকে ফিরেছেন, দফায় দফায় জেরার মধ্য দিয়ে যেতেই হবে তাঁকে।

অভিনন্দনকে জেরা করতে আনা হতে পারে ইনটেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) আধিকারিকদেরও। তবে সচরাচর পাইলটদের তাঁদের হাতে তুলে দেয় না বায়ুসেনা। তাই অভিনন্দনের ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। পাকিস্তানে পা রাখা থেকে ওয়াঘা সীমান্ত পার করা, গোয়েন্দাদের প্রতি মুহুর্তের সবিস্তার বর্ণনা দিতে হবে অভিনন্দনকে। বন্দি অবস্থায় তাঁর কাছে কী কী জানতে চাওয়া হয়, তা জানাতে হবে তাঁকে। বুধবার তিনি বিমানে ওঠা থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিমান ভেঙে পড়া পর্যন্ত গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবেন গোয়েন্দারা। পাক সেনাবাহিনী তাঁর মিগকে নিশানা করতে করে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, তাও জানার চেষ্টা করা হবে। তাঁর সঙ্গে থাকা কোন কোন নথি তিনি নষ্ট করতে পেরেছিলেন এবং কী কী নথি পাক সেনার হাতে পৌঁছেছে তারও তালিকা তৈরি করা হবে। শত্রুপক্ষের হাতে বন্দি ছিলেন অভিনন্দন। সেখানে তাঁকে আপসের কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, তাঁকে ব্যবহার করার কোনও চক্রান্ত কোনও করা হয়েছি কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবেন গোয়েন্দারা। এই গোটা পদ্ধতিকে সামরিক পরিভাষায় বলা হয় ‘ডিব্রিফিং’।

বেলা পড়ল। সীমান্তের সূর্যও তখন তাপ কমিয়েছে। ওয়াঘার সীমান্ত দিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখলেন অভিনন্দন। আনন্দে মেতে উঠল গোটা দেশ। যুদ্ধ আর চাই না! শান্তি আসুক। আর তোমার মতো অভিনন্দন প্রতিটা ঘরে দিক ভগবান! জয় হিন্দ।

Spread the love