অ্যাডভেঞ্চার ভরা অস্ট্রেলিয়া

Life24 Desk   -  

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ঘুরতে গেলে হাতে ছুটি রাখতে হবে চার সপ্তাহের। তার মধ্যে তিন সপ্তাহই হাকবে রোড ট্রিপ। রোড ট্রিপ শুরু করবেন পার্থ থেকে। কোলকাতা থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে পার্থ পৌঁছাতে পারেন। সেখান থেকে সমুদ্রের ধারের রাস্তা ধরে চলে যেতে হবে উত্তরে। মাকলস ডেজার্ট, ম্যাঙ্কি মিয়া, এক্স মাউথ। এরপর নিঙ্গালু মেরিন পার্কের পর পোর্ট হেডল্যান্ড আর এইটি মাইল বিচ হয়ে আপনাকে ব্রুমের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ফেরার সময় কারিজিনি ন্যাশনাল পার্ক হয়ে পার্থ ফিরবেন। এর জন্য ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়টাই বেস্ট। রোড ট্রিপ করতে গেলে ভাড়া করে নিন ক্যাম্পার ভ্যান।

পিনাকলস ডেজার্ট আর লেক থেটিস

পার্থের উত্তরে আছে জুন্ডালুপ বিচ। জুন্ডালুপ বিচের থেকে পিনাকলস ডেজার্ট এর দূরত্ব দেড়শো কিমির কিছু বেশি। একটা বড়ো মরুভুমির মতো এলাকা জুড়ে বালি থেকে গজিয়ে উঠেছে সরু লম্বা লাইমস্টোনের গঠন। সবচেয়ে উঁচু লাইমস্টোনের স্তম্ভগুলোর উচ্চতা প্রায় দশ ফুটের কাছাকাছি। পিনাকলস থেকে পঁচিশ কিলোমিটার দূরে লেক থেটিস। সেখানে দেখার বিষয়টা হল স্ট্রোম্যাটোলাইট। না জেনে দেখলে আপনার এদের পাথর  ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না, কিন্তু এগুলো আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীব। লেক থেটিসে যেটা দেখা যায় সেটা এই জীবের আধুনিক সংস্করন।

পিঙ্ক লেক

পিঙ্ক লেক বলে গুগুলে সার্চ করলে আপনি যে লেকটি দেখতে পাবেন সেটি রাজ্যের একদম দক্ষিন দিকে এসপারেন্সের কাছে। তবে পার্থের অতটা দক্ষিনে যাওয়ার সময় যদি আপনার না থাকে আপনি ক্যালিবারি ন্যাশনাল পার্কের কিছু আগে পোর্ট গ্রেগরির কাছে আরও একটা গোলাপি হ্রদ পেয়ে যাবেন। জমি ভেজা আর নুনের আস্তরণে ঢাকা।

ক্যালবারি ন্যাশনাল পার্ক

এখানকার বিশেষত্ হচ্ছে এর ন্যাচরাল উইন্ডো, প্রাকৃতিক জানালা। একটা পাথরের দেওয়ালের মধ্যে একটা বড় ফুটো। এই প্রাকৃতিক জানালা থেকে গর্জের সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। সামনেই দেখতে পাবেন কাদাজলের নদী সামনে দিয়ে বাঁক নিচ্ছে। নদীর আশেপাশে রুক্ষ জমিতে ছোটখাটো মরুভূমির গাছ। ন্যাচারাল উইন্ডোর সামনে পাবেন দুটো হাইকিং রুট। পাবেন একটা হাইকিং ট্রেল যেটা নেমে যাবে অন্য একটা ছোট নদীর পাড়ে। রাস্তাটা সরু পাথুরে জমির উপর দিয়ে। আপনাদের ওই রুট ধরেই এগিয়ে যেতে হবে। রাস্তা সেখানে নেমে গেছে বেলপাথরের পাহাড়ের গা দিয়ে নীচের দিকে। রাতে ক্যাম্পার ভ্যান পার্ক করার ব্যাবস্থা  দুরকম, এক নং হল ক্যারাভ্যান পার্কিং, এক্ষেত্রে যেখানে পার্ক করানো হয় সেখানে থাকার জন্য একটা ভাড়া লাগে সাথে অনেক সুযোগ সুবিধাও পাওয়া যায়, দ্বিতীয় হল রেস্ট এরিয়া যেখানে কিছু চেয়ার টেবিল আর টয়লেট ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না। ক্যালিবারি থেকে নর্থ ওয়েস্ট কোস্টল হাইওয়ের দিকে যাবার পথে দেখা পেতে পারেন জীবন্ত ক্যাঙ্গারুর। ক্যাঙ্গারুর মাংস খাওয়ার জন্যে পাওয়া যায়।

শার্ক বে

মানুষ সেখানে ডলফিন দেখতে যায় তাকে বলে মাঙ্কি মিয়া ডলফিন রিসর্টে। প্রতিদিন সকালে একটা নির্দিষ্ট সময়ে অতিথিদের নিয়ে রসর্টের স্টাফরা বিচে যান। এবার দেখা মেলে ডলফিনদের। ট্যুরিস্টদের মধ্যে কয়েকজনকে বেছে নেওয়া হয় ডলফিনদের মাছ খাওয়ানোর জন্য। রিসর্টে ক্যাম্পার ভ্যান পার্কিং এর সুবিধা আছে। রিসর্টে আরো দেখতে পাবেন বুনো এমু। চাইলে রিসর্টের বিচে স্নানও করতে পারেন। এই সময় আপনার আশেপাশেই ঘুরে বেড়াবে ডলফিনরা। এই বিচে একটা দিন যে কীভাবে কেটে যাবে বুঝতেও পারবেন না।

কোরাল বে

অস্ট্রেলিয়া বেড়াতে গেলে স্নর্কেলিং ট্রিপ এর কথা শুনে থাকবেন। এর অফিস খুজে পেতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। ঘন্টা সাতেকের ট্যুর। সাঁতার না জানলেও অসুবিধা নেই ওরা ন্যুডল স্ট্র্যাপ দিয়ে দেবে। ন্যুডল স্ট্র্যাপ সরু পাইপের মত একটা জিনিস যেটা জলে ভাসমান থাকে। এটা বুকের নীচে দিয়ে সাঁতার কাটলে সমুদ্রে ভেসে থাকতে অসুবিধা হয় না। এখানে সমুদ্রের জগতের মধ্যে আপনি কাটিয়ে ফেলতে পারেন কয়েক ঘন্টা। এবার চলে যেতে হবে পরের গন্তব্যে। জলের নীচে একটা কোরাল আছে যাকে দেখতে অনেকটা বাঁধাকপির মত। সেখানে আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে নৌকায় করে। একসাথে পনেরো কুড়ি জনের চড়ার মতো সেই নৌকা। এই কোরালের আশেপাশে অনেক হাঙ্গর আসে যেগুলো নিরীহ রিফ শার্ক। এদের আসার কারনটা আরো মজার, এরা আসলে আসে নিজেদের দাঁত পরিস্কার করতে। ক্যাবেজে থাকে কিছু ছোট ছোট মাছ যেগুলো হাঙরের দাঁত পরিস্কারের কাজ করে। হাঙরেরা ক্যাবেজের কাছে এসে হাঁ করে দাঁড়ায় আর ওখানেই ছোট মাছেরা ওদের মুখে ঢুকে দাঁতে আটকে থাকা খাবার খেয়ে দাঁত পরিষ্কার করে দেয়। শার্কদের যখন মনে হয় ওদের কাজ শেষ তখন ওরা মাথা নাড়ায় আর ছোট মাছেরা পালায়। নৌকা দাঁড়াবে ক্যাবেজ থেকে খানিকটা দূরে। পঞ্চাশ মিটার মত সাঁতরে ক্যাবেজের কাছে যেতে হবে। ক্যাবেজ থাকে জলের প্রায় ৩০ ফুট নীচে। সেখানেই দেখতে পারবেন শার্কের আনাগোনা। শঙ্কর মাছ বা রে জাতীয় মাছ  সবসময় যে দেখা যায় তা না কিন্তু ট্যুর কোম্পানিদের প্লেন থাকে যারা সমুদ্রের উপর ঘুরে ঐ মাছ থাকলে নৌকা চালকদের খবর দেয়।

অয়েস্টার স্ট্যাক্স

এখানে দেখার অনেক কিছু আছে। কেপ রেঞ্জ ন্যাশনাল পার্ক, টালি বিচ। এখানে ক্যাম্পিং সাইটও আছে। পুরো এলাকাটা নিঙ্গালু মেরিন পার্কের মধ্যে পরে।

কারজিনি ন্যাশনাল পার্কে

এখানেও কয়েকটি অসাধারণ গর্জ আছে। কিছু শুকনো। কোনোটা কোনোটার মধ্যে দিয়ে নদী বয়ে চলছে। কোথাও জল কাদা আর কোথাও জল পরিষ্কার।এই জমে থাকা জল থেকে বেশ কয়েকটি পুল তৈরি হয়েছে। সার্কুলার পুলের ভিউ খুব সুন্দর। হ্যান্ডরেলে যাওয়ার রাস্তা খুব বিপজ্জনক কিন্তু পৌঁছাতে পারলে এক দারুণ দৃশ্যের সাক্ষ্মী হয়ে থাকবেন। এর জল পরিষ্কার। শুকনো উইঅ্যানো গর্জও খুব সুন্দর।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।