কংগ্রেস-সিপিএমের জোট তো হলো! শিঁকে ছিঁড়বে তো?

Life24 Desk   -  

লোকসভা ভোটে জোট করলেও সেই জট থেকে সিপিএম এবং কংগ্রেসের কতটা সুবিধা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম ও কংগ্রেসের আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে তৎপর হলেও তা খুব একটা কার্যকর হল না। ২০১৪ সালে  সিপিএমের জেতা দুই আসন রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ ঘিরে জট ছাড়ানোই এখন দু’পক্ষের সামনে প্রধান সমস্যা। দিল্লিতে দু’দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনার পরে সোমবার সিপিএম জানিয়ে দিয়েছে, তারা রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ আসনে লড়াই করবে।

কিন্তু বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেতে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতায় তারা প্রস্তুত। এদিন বৈঠকের শেষে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘‘বাংলায় কংগ্রেস ও সিপিএমের হাতে এখন ৬টি আসন আছে। ওই ৬টি আসনে কেউ কারও বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না, এটাই আমাদের অবস্থান। বাকি আসনের বিষয়ে কলকাতায় আগামী ৮ মার্চ রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠকে আলোচনা হবে।’’

একই দিনে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান অধীর চৌধুরীকে ডেকে পাঠিয়ে বাংলায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন রাহুল গাঁধী। মুর্শিদাবাদ আসন নিয়ে জটিলতা কেন, তা-ও জানতে চেয়‌েছেন কংগ্রেস সভাপতি। অধীরবাবু তাঁকে জানিয়েছেন, গত বার জিতেছিল বলে মুর্শিদাবাদ আসনের উপরে সিপিএমের দাবি স্বাভাবিক। কিন্তু মাঝের পাঁচ বছরে মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রথমে কংগ্রেস ভেঙেছে তৃণমূল। এখন আবার তৃণমূল এবং সিপিএম ছেড়ে কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে কংগ্রেস কর্মীদের সিপিএমের প্রতীকে ভোট দিতে রাজি করানো মুশকিল, এই কথাই রাহুলকে জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

পরে অধীরবাবু বলেন, ‘‘রাহুলজি যা যা জানতে চেয়েছিলেন, ওঁকে বলেছি। তার পরে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, তিনি নেবেন।’’ শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস বাংলায় তৃণমূলের হাত ধরতে পারে বলে নানা মহলে যে গুঞ্জন চলছে, সেই প্রসঙ্গে রাহুলের সঙ্গে তাঁর কোনও আলোচনা হয়নি বলে অধীরবাবুর বক্তব্য। রাহুলের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরোনোর পথে এ দিন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদের আলাপ হয়েছে প্রিয়ঙ্কা বঢরার সঙ্গেও।

Spread the love