বিজেপি হটাও স্লোগান দিয়ে কী নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করতে চাইছে সিপিএম!

Life24 Desk   -  

২০১৯-এ লোকসভা ভোট ঘিরে রাজনৈতিক দল গুলি ইতিমধ্যেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। শাসক দলের দাবি মতো তারা মানুষের হৃদয়ে যথারীতি তাদের জায়গা তৈরি করে রেখেছে। তাই তাদের জায়গা মজবুত আছে। লোকসভা ভোটে তাই তাদের জয় নিশ্চিত। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটে নদিয়া, ঝাড়গ্রামের দিকে তৃণমূল সেইভাবে আসন কুড়োতে পারেনি। তারপরে দলের অভ্যন্তরেই নেত্রীর বিরাগভাজন হতে হয়েছে তৃণমূলের অনেক নেতা কর্মীকেই। তাই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল নিজেদের ওপর যতই বিশ্বাস দেখাতে চেষ্টা করুক না কেন, কোথাও তাদের সেই আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরেছে।

বর্তমানে চারিদিকে যে রাজনৈতিক পরিবেশ তাতে কংগ্রেস আর বামফ্রন্ট্রের অবস্থা প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে বাংলায় কংগ্রেসের অবস্থানকে সাংগঠিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করার জন্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে সৌমেন মিত্রকে। তাঁর নেতৃত্বে দল আবার তার নিজের জায়গায় ফিরতে পারবে কিনা, সেই সম্পর্কে দলের অভ্যন্তরেই অনেক মতপার্থক্য শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। দলের অভ্যন্তরে অনেকেরই মত, অধীরের মতো লড়াকু নেতাকে সরানোর সিদ্ধান্ত লোকসভার ভোটের আগে নেওয়া ঠিক হয়নি। এদিকে এই সবের মাঝখানে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে বামনেতৃত্ব। বামেদের প্রধান শত্রু হল তৃণমূল। কারণ তৃণমূল সরকারের কারণেই তাদের ৩৪ বছর ধরে গড়ে তোলা মসনদ হারাতে হয়েছিল। এদিকে তৃণমূলকে সরাতে গেলে বিজেপিকে আনতে হবে, এমন কথাই এখন শোনা যাচ্ছে অনেক রাজনৈতিক নেতাদের মুখে।

অথচ সিপিএম-এর কথায়, বিজেপি বিকল্প শক্তি হিসাবে রাজ্যে একটি জায়গা তৈরি করে নিতে চলেছে রাজ্য। কারণ দিদি আর মোদী সামনাসামনি যতই শত্রুতা দেখাক না কেন, ভিতরে ভিতরে দুজনের সেটিং ঠিক আছে। কারণ তা না হলে নারদা, সারদা নিয়ে ঘটে যাওয়া কাণ্ডগুলির নেপথ্যে থাকা মানুষগুলির এতদিনে আসল মুখোশ বেরিয়ে পড়ত। কিন্তু তদন্তই চলছে ঢিমেচালে। আর এই নিয়ে নীরব আছেন মোদী সরকার।

তাই রাজনৈতিক বাতাবরণের এই পরিবেশে দাঁড়িয়ে একাংশ মানুষের মনে তৃণমূলের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকেই বিজেপির প্রতি একটা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সিপিএম। সিপিএম-এর কথায় রাজ্য থেকে তৃণমূলকে সরাতে হলে আগে বিজেপিকে হঠাতে হবে। তাই তৃণমূলকে হঠাতে লোকসভা ভোটের আগে, বিজেপি হটাও স্লোগান দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ জোট গড়ার আহ্বান দিয়েছে সিপিএম। সেইসঙ্গে সিপিএম মহলের কথায়, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির আঁতাত মানুষ এখনও বুঝে উঠতে পারছে না। একটা সময় বিজেপির মুখে শোনা যেত, ‘ভাগ মুকুল ভাগ’। এখন সেই মুকুলকে নিয়েই তারা নাচানাচি করছে। কাজেই দেশ বাঁচাতে হলে আগে বিজেপি তাড়াতে হবে আর রাজ্য বাঁচাতে হলে তৃণমূলকে তাড়াতে হবে।

Spread the love