আশ্চর্য্য এক গ্রাম, সব বাড়িতেই দিন রাত খোলা থাকে দরজা

Life24 Desk   -  

অনেক ধরনের গ্রাম দেখা গেছে। কিন্তু এমন এক আশ্চর্য গ্রামের খবর পাওয়া গেছে যে গ্রামে দিন-রাত দরজা খোলা থাকে প্রতিটি ঘরের। এমন এক আশ্চর্য গ্রাম যেখানে কোন বাড়ির ঘরের দরজা রয়েছে তবে কবাট নেই। অর্থাৎ কোনো ধরেই দরজা লাগানো থাকে না। যে কেও এমন কথা শুনলে আশ্চর্যই হবেন। তবে ঘটনাটি সত্য। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে এমন একটি খবর। ঘটনাটি ভারতের। সেখারে ঘরের দরজা আছে বটে, কবাট নেই। এক্কেবারে উদোম অবস্থা। তাই বলে ভাবতেন না যে সেখানে চোর গিয়ে হানা দেবে। কখনও নয়, কারণ ওই গ্রামের সবাই এরকমভাবে ঘরের দরজা খোলা রাখেন। কেনো এমন কাজ করেন তারও একটা উত্তর মিলেছে। আর সেটি হলো, শনি দেবের কোপানলে পড়তে হবে- এমন আশংকা রয়েছে সেখানকার মানুষদের মধ্যে। আর তাই তারা দরজা সব সময় খোলা রাখেন। এমন এক বিশ্বাস এবং ভরসা থেকেই ভারতের ওই গ্রামের কোনো বাড়িতে দরজায় কবাট নেই।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেখানকার ব্যাংকের দরজায়ও তালা নেই। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শনি শিংনাপুর নামক গ্রামে এমন অরক্ষিতভাবে থাকে প্রতিটি বাড়ি। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দরজা উদোম ঘরেই এলাকাবাসী নিশ্চিন্তে টাকাপয়সা, গয়নাগাঁটি রেখে বাইরে কাজে যান। আবার থাকেনও নির্ভাবনায়। বহু যুগ যুগ ধরে বংশপরম্পরা চলে আসছে ঠিক এভাবেই। ঘরে দরজার কবাট না থাকার কারণ জানতে চাইলে জয়শ্রী গাড়ে নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘বহু বছর আগে শনি দেব গ্রামের বাসিন্দাদের স্বপ্নে দেখা দেন। শনি দেব বলেন, তিনিই তাদের সবকিছু রক্ষা করবেন। এরপর হতে গ্রামে এমন প্রথা চলে আসছে।’

এক কারখানার শ্রমিক বালাসাহেব বরুদ জানান, ‘শনি দেব শক্তিমতী এবং করুণাময়ী। রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে যদি কেও চুরি করে তাহলে দেবর কৃপায় সকালে সে আবার সেই বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হবে।’

অপরদিকে কয়েকজন গ্রামবাসী একটু ভিন্ন ভাষ্য দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ‘বুনো জন্তুর হাত হতে রক্ষা পেতে রাতে তারা ঘরের কবাট হালকাভাবে চাপিয়ে রাখেন। ৩শ’ বছর আগে গ্রামটিতে বন্যা হয়। সে সময় লোহা এবং পাথর দিয়ে দেবর স্তম্ভ বানানো হয়। ফুল দিয়ে দেবকে পূজা দেন গ্রামের বাসিন্দারা।

অপরদিকে গ্রামের সরকারি ব্যাংক ইউসিওর কাচের দরজাতেও কোনো তালা লাগানো হয় না। ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নগেন্দ্র সেহওয়াত বলেছেন, ‘এমন ব্যবস্থায় তাদের কোনো সমস্যা হয় না।’

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গ্রামে চুরির ঘটনাও ঘটে খুব কম। ২০১০ সালে সেখানে আসা এক পর্যটক অভিযোগ করেছিলেন তার গাড়ি হতে ৩৫ হাজার রুপি চুরি গেছে। তবে তা গ্রামের বাইরের ঘটনা। ওই গ্রামে চোর-ডাকাত এবং দুষ্ট লোকের সংখ্যাও কম।

গ্রামের বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন, ঐতিহ্যের ধারা সব সময় অব্যাহত থাকবে। শনি দেবই তাদের গ্রামের অভিভাবক। হোটেলের ব্যবস্থাপক অমিত শর্মা বলেন, এটিই হলো আমাদের এই শনি দেবর বিশেষত্ব। তিনিই গ্রামের অভিভাবক। তবে এমন ঘটনার কথা শুনে অনেকেই আশ্চর্য না হয়ে পারেন না। কারণ চুরি-ডাকাতি বর্তমান সময়ে এক মহামারির মতোই ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের সব প্রান্তেই। অথচ এমন একটি এলাকা যেটিকে বর্তমান সমাজের এক দৃষ্টান্ত।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।