কাটা মুণ্ডু দিয়ে প্রেম নিবেদন!

Life24 Desk   -  

প্রচলিত ধারায় প্রেম নিবেদন করতে জানেন না তাঁরা। তাঁদের প্রেম নিবেদনের আলাদা রীতি রয়েছে। সে রীতি শুনলে নিঃসন্দেহে চমকে যাবেন আপনি। তাঁদের প্রেম নিবেদনের পদ্ধতি হল মুণ্ডু ধর থেকে ‘AXE’ করে দিয়ে অর্থাৎ ধর থেকে আলাদা করে দিয়ে। ভাবেন না ওরা ওরাং ওটাং। ওঁরা কিন্তু আপনার মতোই মানুষ। কিন্তু সাধারণ নয়। ওঁরা অসম নাগাল্যান্ড সীমান্তের দুর্ধষ্য ‘কন্যাক’ উপজাতি।

তবে এখন কন্যাকদের নরমুণ্ড দিয়ে প্রেম নিবেদন বা বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার খবর আসে না। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ার বহু পরে ১৯৬৯ সালেও তাঁদের নরমুণ্ড শিকারের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এই কাটা নরমুণ্ড দিয়েই নাকি তাঁরা স্বজাতির কোনও তরুণীর হৃদয় হরণ করত। শুধু তাই নয়, কাটা মাথা দিয়ে ঘর সাজানও হতো। এতেই নাকি তাঁদের ঘরের শোভা বৃদ্ধি পেত।

একটা সময় নাগা প্রত্যেক উপজাতিই মুণ্ডু শিকারই ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ মিশনারি আর সেনাবাহিনীর চেষ্টায় মুণ্ডু শিকারের প্রথা কমতে শুরু করে। পরে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাঙালি নৃবিজ্ঞানী বলেন, “বিলুপ্ত বলা হচ্ছে কারণ ১৯৬৯-এর পর থেকে ৫০ বছর এমন কোনও ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ে কোথায় কী হচ্ছে, সব সরকারের সর্বক্ষণ নজরে রাখা সম্ভব নয়। হতেও পারে লুকিয়ে চুরিয়ে সেই ভয়ংকর প্রথাকে পাহাড়ের খাঁজেই আটকে রেখেছে।” বিয়ের কনের মন পেতে হলে অন্তত একটা মাথা কেটে আনা ছিল নাগা সমাজের গর্ব।

১৯৪০ সালে ভয়ংকর এই প্রথা আইন করে নিষিদ্ধ করার আগে পর্যন্ত কন্যাকদের মধ্যে লড়াই মানেই ছিল যেভাবে হোক প্রতিপক্ষের মুণ্ডু শিকার। প্রতিপক্ষের কোনও যোদ্ধাকে হত্যা করে তার মুণ্ডু কেটে নিয়ে আসতে পারাই তরুণ কন্যাকদের জন্য বীরের মর্যাদা লাভের সুযোগ ছিল। ওই নৃবিজ্ঞানীই জানাচ্ছেন, “প্রতিপক্ষের মুণ্ডু কেটে নেওয়া অমানবিক হলেও, নাগা যোদ্ধাদের কাছে এটাই ছিল বীরত্বের নিদর্শন। মানুষের পাশাপাশি মহিষ, হরিণ, বনগাই, বন্য শূকর আর ধনেশের মাথার খুলি আর হাড়ে সাজানো থাকত সব কন্যাকদের বাড়ির দেওয়ালে।

বহু বছর ধরে ক্রমাগত শিক্ষা আর আইন কানুনের যৌথ উদ্যোগে এই রীতি বিলুপ্ত হয়েছে বলা চলে। পাশাপাশি বহু কন্যাক এখন শহর বন্দরে যাতায়াত করে বলে জানা গিয়েছে। সভ্য জগতে থেকে তাঁদের হিংস্রতা অনেকটাই কেটেছে বলেও মনে করেন স্থানীয়রা। নরমুণ্ড শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেক কন্যাকই তাঁদের সংগ্রহে থাকা শত্রুদের মাথার খুলিগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেছে বলেও শোনা যায়।

 

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।