সমুদ্রের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটাতে বেছে নিতেই পারেন গোপালপুর সি-বিচ

Life24 Desk   -  

কথায় বলে সমুদ্র নাকি মানুষের মতো কথা বলে। মানুষের মতো সমুদ্রও ভাগ করে নেয় তার কান্না-হাসির দোল-দোলানো কথার মালা। সারি সারি ছুটে আসা ঢেউ, মুক্তোর দানার মতো সমুদ্র সফেন, নিরিবিলি সমুদ্র সৈকতের ভিজে বালি। বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি আর ঝাউবনের মন মাতানা শোঁ শোঁ হাওয়াকে যদি উপভোগ করতে চান তাহলে আপনি টুরিস্ট স্পট হিসেবে বেছে নিতেই পারেন গোপালপুরের সীবিচ। আর গোপালপুরে গেলে শুধু সমুদ্রই-বা কেন হাতে সময় থাকলে ঘুরে নিতে পারেন তপ্তপানি, চিল্কা লেক ইত্যাদি। ওড়িশার বিভিন্ন সি-বিচগুলোর মধ্যে গোপালপুরের সমুদ্রসৈকতে সকলে আসেন নিরিবিলির খোঁজে। সমুদ্রের ধারের বালিয়াড়ির অন্যতম আকর্ষণ বিশাল লাইটহাউস। যার উপর থেকে সমুদ্রের ৩৬০ ডিগ্রি ‘ভিউ’ পাওয়া যায়। ভাল করে খেয়াল করলে চিল্কার একটা অংশও দেখা যায় এই লাইটহাউসের উপর থেকে। বিকেলের দিকে ঘণ্টাদুয়েকের জন্য পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হয় লাইটহাউস। ওড়িশার পর্যটন উন্নয়ন দফতরের রক্ষণাবেক্ষণে বহাল তবিয়তে রয়েছে প্রাচীন এই লাইটহাউস। হাতে যদি ক্যামেরা থাকে, গোপালপুর সি-বিচের দুর্দান্ত সব ছবি পাওয়া সম্ভব এখান থেকে। প্রায় দেড়শোর বেশি সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হবে, এই যা!

গোপালপুর বিচের আরেকটা বড় সুবিধা হল, এখানে সমুদ্রতটের একেবারে গা ঘেঁষে থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে। মনে হবে, যেন হোটেল থেকে দু-এক পা এগোলেই নোনাজল বালি ভেদ করে এসে পায়ে ঠেকবে! গোপালপুর পোর্ট, ডলফিন পয়েন্ট, হিলটপের মতো জায়গাগুলো একটা অটো বা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে দেখে নিতে পারেন। গোপালকৃষ্ণ মন্দির, কাজুবাদাম তৈরির কারখানাও দেখে নিন। অনেকের মতে, এই মন্দিরের নাম থেকেই জায়গাটার নাম রাখা হয়েছিল। যদি গাড়ি নিয়ে যান, নিজেরা ঘুরে আসুন রুশিকুল্যা নদীর মোহনা কিংবা চন্দ্রগিরি পাহাড়। আশপাশের জায়গাগুলো আগে থেকে বাছাই করে, গাড়ির সঙ্গে কথা বলে প্যাকেজ ট্যুরের বন্দোবস্ত করে রাখতে পারেন। গোপালপুরের ব্যাকওয়াটার সফরও মন্দ নয়। খাঁড়ির মধ্যে দিয়ে নৌ-ভ্রমণ!

আবার বেশি ঘোরাঘুরি যাদের না-পসন্দ, যারা শুধুই সমুদ্রের মুখোমুখি বসে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান, তাঁরা বেছে নিতে পারেন বিচের উপরের সি-ফেসিং কোনও রুম। তারপর শুধু বঙ্গোপসাগর আর আপনি! আর মাঝে মাঝে মৎস্যজীবীদের আনাগোনা। পূর্ণিমার সময়ে গেলে রাতের সমুদ্র অপার্থিব! এমনিতেও সমুদ্রের বুকে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত কিছুতেই মিস্‌ করবেন না। সপরিবার যান কিংবা বন্ধুদের নিয়ে, গোপালপুর সফর আপনার মন জুড়িয়ে দেবে, সেটা নিশ্চিত!

কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে বেরহামপুর যাওয়ার যে কোনও ট্রেন ধরুন। চেন্নাই মেল-সহ অনেক ট্রেনই পাবেন। গাড়িতে গেলে হাতে এক বেলা সময় নিয়ে বেরোন। আর বিমানে, ভুবনেশ্বর থেকে বেরহামপুর হয়েও যাওয়া যায় গোপালপুরে।

কোথায় থাকবেন: ওড়িশা পর্যটন দফতরের পান্থনিবাসে থাকতে পারেন। এছাড়া বেসরকারি অনেক হোটেলও রয়েছে। বেশিরভাগ সময়েই এখানে পর্যটকদের ভিড়ের চাপ তেমন থাকে না। তাই গিয়ে বুকিং পেতে অসুবিধে হবে না।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।