হ্যাপি নিউ ইয়ার… কেন? কবে থেকে?

Life24 Desk   -  

Happy New Year… আজ সারাদিন ধরেই ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক সবেতেই প্রায় সারাদিন ধরেই একে অপরকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পালা চলবে। তবে এই শুভেচ্ছা জানানো শুধু আজ নয়, শুভেচ্ছা জানানোর পালা শুরু হয়ে যায় মোটামুটি ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকেই। চলে প্রায় গোটা জানুয়ারি মাস ধরে। নতুন বছরকে সকলেই নিজের মতো করে বরণ করে নেন। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে এক একজনের থাকে একেক রকম প্ল্যান। সেই প্ল্যানও শুরু হয়ে যায় অনেক দিন আগে থেকেই। মজার ব্যাপার হল নতুন বছরে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান, আনন্দ, মজা করে কাটান, কিন্তু এই ১ জানুয়ারিকেই কেন বর্ষবরণের দিন বলা হয় বা এই ধারণা কীভাবে এলো সেটা কি সকলের জানা? অনেকে হয়তো বলতেই পারেন ইংরেজি মাসের প্রথম মাস বলেই হয়তো ১ জানুযারিকেই বর্ষবরণের দিন হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারি মাসটাই বা কীভাবে ইংরেজি মাসের প্রথম মাস হল, অন্য মাসগুলো কেন হল না? এই প্রশ্ন কি কখনও মনের কোনে উঁকি মেরেছে? আসলে এর পিছনে বিশাল ইতিহাস রয়েছে।

ব্যাপারটা হচ্ছে, সারা বিশ্বে যে সমস্ত উৎসব পালন করা হয়, তারমধ্যে সবথেকে বড় উৎসব হল বর্ষবরণ উৎসব। তবে এখানে আরও একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে, বর্ষবরণের উৎসব ঠিক কবে থেকে পালন করা শুরু হল? এই উৎসব শুরু হয় আনুমানিক ৪০০০ বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে। জানা যায়, সেই সময় মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয়। তবে মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার ৪টে আলাদা আলাদা ভাগ আছে, সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনিয় সভ্যতা, আসিরিয় সভ্যতা ও ক্যালডিয় সভ্যতা। এই চারটি সভ্যতার মধ্যে ব্যাবিলনিয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয়। সেই সময়ও বেশ আড়ম্বর করেই নতুন বছর পালন করা হত। তবে তখন ১ জানুয়ারি বর্ষবরণ উৎসব পালন করা হত না, বসন্তের প্রথম দিনে নিউ ইয়ার পালন করা হত। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি সেই সময় নতুন রূপে সেজে উঠত। সেই সময়কেই নতুন বছর হিসাবে পালন করা হত। একটা মজার বিষয় হল, সেই সময় সেই সময় তাঁরা চাঁদ দেখে বছর গণনা করত। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠত সেদিনকেই তাঁরা নিউ ইয়ার হিসাবে পালন করত। এই উৎসব চলত টানা ১১ দিন ধরে। তবে এই ১১ দিনের আলাদা তাৎপর্য ছিল।

জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন করার ক্ষেত্রে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর রোমানদের নাম উঠে আসে। তবে তাঁরা তখন ১ মার্চ নববর্ষ পালন করত। রোমানদের বর্ষ বরণের ইতিহাসটিও বেশ মজার। ওরা চাঁদ দেখে একটা ক্যালেন্ডার বানিয়েছিল। তবে প্রথম দিকে ওদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল মাত্র ১০টা, জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি ছিল না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল, তাঁদের ক্যালেন্ডারে কোনও তারিখ ছিল না। চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা দিয়ে ওরা মাসের বিভিন্ন সময়কে চিহ্নিত করতো। চাঁদ ওঠার সময়কে বল হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস। পরে সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান। তিনি সবকিছুকে পরিবর্তন করে ক্যালেন্ডারে তারিখ বসান। বছর হয় ৩৫৫ দিনের। তাঁদের ক্যালেন্ডারে ১০ দিন কম থাকার কারণ হল চাঁদের হিসাব করায় তাদের বছরে ১০ দিন কম থেকে গিয়েছিল। এই নিয়েও এক মজার ঘটনা ঘটেছিল। চাঁদের হিসাবে প্রতি মাসে দিন হয় সাড়ে ২৯টি। এজন্যই আরবি হিজরি সালের মাসগুলো ২৯ কিংবা ৩০ দিনে হয়।  এইভাবে বছর হিসাবের ফলে সমস্যায় পড়লেন চাষিরা। এই সমস্যার সমাধান করলেন হোঞ্চাস হেডাস নামের এক রোমান।তিনি ফেব্রুয়ারি মাসটাকে ঢুকিয়ে দিলেন। এতেও সমস্যার সমাধান হল না। সিজার অনেক চিন্তাভাবনা করার পর জানালেন চাঁদের হিসাব না করে সূর্য দিয়ে হিসাব করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সমাধান হলও বটে। বছর হয়ে গেল ৩৬৫ দিনের। তবে এরপরও সমস্যা দেখে তৈরি হয়েছিল। কোন মাসে নতুন বছর শুরু হবে সেই নিয়ে সকলে দ্বন্ধে পড়ে গিয়েছিল। এক এক সময় এক এক জায়গায় নববর্ষ পালিত হত। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হয়েছিল বর্ষবরণ হিসাবে ২৬ মার্চ তারিখটি ধার্য করা হয়। কিন্তু সেটাও সব সময় ঠিক ভাবে মানা হচ্ছিল না। পরে যখন সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেন, তখন ঠিক করেন, জানুয়ারির ১ তারিখকেই বছরের প্রথম দিন অর্থাত বর্ষবরণ হিসাবে পালন করা হবে। তবে রোমানরা তাঁর কথাকে অগ্রাহ্য করে ১ মার্চেই নববর্ষ পালন করছিল। পরে জুলিয়াস সিজার ৩৬৫ দিনে এক বছরের কথা ঘোষণা করেন এবং নির্দেশ দেন ১ মার্চ নয়, ১ জানুয়ারি হ্যাপি নিউইয়ার পালন করা হবে। সেই থেকেই ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন করা শুরু হয়।

এই পর্যন্ত পড়ে হয়তো আপনারা ভাবতে পারেন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার যে দিনটি ধার্য করে গেছেন, সেই দিনটাই নববর্ষ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ব্যাপার ঠিক তা নয়। আমরা ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালন করলেও, এই দিনটি আর ওই দিনটি এক নয়। কারণ সিজারের ক্যালেন্ডারে সমস্যা ছিল। পরবর্তীকালে অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস নামে একজন ডাক্তার এই সমস্যা সমাধান করেন। যদিও ইতিহাসে তাঁর নাম সেইভাবে উল্লেখ করা নেই। তিনি যে ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিলেন, সেই ক্যালেন্ডার প্রকাশ্যে এনেছিলেন এক পোপ। তাঁকে অবশ্য সকলেই চেনেন। তিনি পোপ ত্রয়োদশ (১৩তম) গ্রেগরি। তাঁর নামানুসারেই ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এই ক্যালেন্ডারটিই ব্যবহার করা হয়ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এই ক্যালেন্ডারটিই ব্যবহার করা হয়। এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি হয়েছিল ১৫৮২ সালে। সেই থেকেই সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ জানুয়ারি নিউইয়ার পালিত হয়ে আসছে। নববর্ষ পালনের জন্য যে দিন ধার্য হয়েছে সেই ইতিহাস বেশ মজার তাই না! এই দিনে সকলেই মজা করে, আনন্দ করে কাটান। কিন্তু এই মজার ইতিহাস হয়তো অনেকেরই জানা ছিল না। তবে এবার সেই ইতিহাসও জানা হয়ে গেল।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।