হরচন্দ্র লেনের ২২ নম্বর বাড়ি

Life24 Desk   -  

হরচন্দ্র লেনের ২২ নম্বর বাড়ি

উত্তর কলকাতার হরচন্দ্র লেনের ২২ নম্বর বাড়ি। তার পাশ দিয়ে চলে গেছে চক্ররেলর লাইন। বাড়িটির বাইরের দেওয়ালের শিল্পকর্ম তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। সঙ্গে খোলা দরজার পাশে ঝোলানো একটি বিজ্ঞপ্তিও, ‘কঠোরভাবে প্রবেশ নিষেধ’। কারণ, এ বাড়ির বর্তমান বাসিন্দারা একেবারেই চান না যে ‘ভূত’ দেখার নাম করে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ুক আগন্তুকের দল। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন কোন বাড়ির কথা বলছি।

নারীঘটিত নানা কেচ্ছা-হত্যা-মৃত্যু আর ভূত-রহস্য-রোমাঞ্চ নিয়েই কলকাতার হেরিটেজ হাউসগুলোর শীর্ষে রয়েছে পুতুল বাড়ি। কলকাতার ‘বাবু কালচার’ এক দিকে যেমন এই শহরের মান বাড়িয়েছিল তেমিন এই শহরের বুকে তৈরি করেছিল বহু অন্ধকার দিকও। ‌ইতিহাস ঘাঁটলে হয়তো সে সব রহস্যের তল পাওয়া মুশকিল। কিন্তু, লোক মুখে অনেক গোপন কথাই ঘোরাফেরা করে আজও। কবে, কী ভাবে যে এমন কথা ছড়িয়েছিল তা বলা কঠিন। মনে করা হয়,  তখন অনেক মানুষকে গোপনে হত্যা করা হয়েছে এই বাড়িতে। ধনীদের লালসার শিকার হয়েছে অনেক মহিলা। এবং তাদের আত্মাই নাকি ঘুরে বেড়ায় এ বাড়ির আনাচে-কানাচে।

ছ’তলার সমান এই পুতুল বাড়ির একদম ওপর তলায় রয়েছে একটি মূর্তি। যা এক সময় অনেক দূর থেকে দেখা যেত। জানা যায়, পুতুল বাড়ি আদতে ছিল বাংলার এক সময়ের বিখ্যাত ‘নট্ট যাত্রা কোম্পানি’র। পরিবারের পঞ্চম প্রজন্ম এখনও থাকেন এই বাড়ির কিছু অংশে। বাকিরা সকলেই ভাড়াটে। ফলে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ করার ইচ্ছে থাকলেও হয়তো সামর্থে কুলোয় না মালিক পক্ষের। প্রসঙ্গত ১৯৯২ সালের ‘সিটি অফ জয়’ ছবিটির শ্যুটিং হয়েছিল এই বাড়িতেই।

হেরিটেজ তকমা পাওয়ো সুবিশাল এই বাড়িটির দৈন্য দশা দেখলা মন খারাপ হয়ে যায়। বাড়ির দেওয়াল-ছাদ নানা জায়গা থেকে গজিয়ে উঠেছে আগাছা। দরজা-জানলার অবস্থাও তথৈবচ। খোলা দরজার অন্দরে চোখ রাখলে দিনের বেলাতেও দেখা যায় শুধুই অন্ধকার। চারপাশ জুড়ে কেমন যেন গা ছমছমে পরিবেশ।

Spread the love