স্বামীর সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকে? তাহলে জেনে নিন সম্পর্কে প্রেম ফেরানোর উপায়

Life24 Desk   -  

কিছু না কিছু নিয়ে সারাক্ষণই স্বামীর সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকে আপনার? আর প্রতিবার ঝগড়ার সময় কি মনে হয়- না, আর নয়! এবার হয় এসপার নয় ওসপার? আপনার উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তা হলে জেনে রাখুন আপনার মতো আরও হাজার হাজার দম্পতি রয়েছেন যাঁরা দিনরাত চুলোচুলি করেও শেষপর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন এবং এখনও অছেন। এমন কোনও চিরসুখী দাম্পত্য নেই, যেখানে ঝগড়া হয় না!

এখন প্রশ্ন হল- ধৈর্যের রেখা সীমা পেরিয়ে ফাটাফাটি ঝগড়ার পর শান্তিপতাকা তোলার উপায়টা কী? মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, চিন্তাভাবনা যতদিন ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’-য় পরিবর্তিত না হচ্ছে, ততদিন দাম্পত্যজীবনে শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়!

কী কী বিষয় নিয়ে অশান্তি হতে পারে দম্পতিদের মধ্যে? খুব পরিচিত কিছু পরিস্থিতি আর তার সম্ভাব্য সমাধানই বা কি জেনেনিন।

একসঙ্গে যথেষ্ট সময় না কাটানো– দু’জনে একসঙ্গে কোথাও যাওয়ার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে স্বামী ফোন করে জানালেন অফিসে মিটিং পড়ে গেছে। আবার ছুটির দিনেও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বেরিয়ে পড়ছেন। এই ধরনের বেশ কিছু ঘটনা দাম্পত্যজীবনের সুখের পথে কাঁটা হয়ে ওঠে। যদি দিনের পর দিন এধরনের আচরণের সম্মুখীন হন, তা হলে আপনার অসন্তোষের জায়গাটা স্বামীকে বুঝিয়ে দিন। ঝগড়াঝাটি না করেও সেটা সম্ভব। প্রতিটি সিদ্ধান্ত স্বামীর কথা ভেবে নেবেন না, বরং নিজের কথাও একটু ভাবুন।

শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে জটিলতা- শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে কি সবসময় একটা ঠান্ডা লড়াই চলে আপনার? উলটোদিক থেকেও একই ব্যবহার ফিরে আসে? এ নিয়ে স্বামীর কাছে বারবার নালিশ করতে যাওয়াটা বোকামি। স্বামীর কাছে বারবার তাঁরই বাবা-মায়ের সম্পর্কে অভিযোগ জানালে তিনি আরও বেশি ডিফেন্সিভ হয়ে উঠতে পারেন। স্বামীর কাছে সরাসরি নালিশ করবেন না। বরং শান্তভাবে ধীরে ধীরে আপনার অসুবিধের কথাটা ওঁকে খুলে বলুন।

সামান্য কারণে কথা বন্ধ- আপনিও কি রাগ হলেই কথা বন্ধ করে দেওয়ার দলে থাকেন, তা হলে একটা কথা আপনাকে বুঝতে হবে। আপনার মনের কথা উলটোদিকের মানুষটি সবসময় বুঝতে পারবেন এমন না হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফলে কথা বন্ধ না করে বরং কী কারণে আপনি ক্ষুব্ধ, সেটা খোলাখুলি স্বামীকে বলুন। যাঁরা এখনও বিবাহিত নন, সেই প্রেমিক-প্রেমিকাদের ক্ষেত্রেও কথাটা প্রযোজ্য।

ঘরের কাজ নিয়ে খিটমিট– ঘরের কাজ কে কতটা করবেন তা নিয়ে দাম্পত্যসমস্যা লেগেই থাকে। পারস্পরিক অসন্তোষ জমা হতে থাকে ক্রমশ। বাড়ির কোন কাজটা কে করবেন, সেটা কথা বলে ঠিক করে নিন। সবাই একইধরনের কাজ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না, তাই বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। আর কাজটা কেন হয়নি তা নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করবেন না। আপনার স্বামী যথেষ্ট দায়িত্ববোধসম্পন্ন, তাই বারবার মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

অফিসের চাপ- আজকাল চাকরির সময়সীমাকে ঘড়ির কাঁটার গণ্ডিতে বাঁধা সম্ভব নয়। তাই স্বামী ঘণ্টার হিসেবে কতক্ষণ বাড়িতে থাকলেন না ভেবে বরং ভাবুন কতটা কোয়ালিটি সময় আপনারা একসঙ্গে কাটালেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা হলেও ওই সময়টুকু পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি মনোযোগ দিন।

শারীরিক ঘনিষ্ঠতার অভাব– ঘনিষ্ঠতা বলতে আপনি কী বোঝেন? শারীরিক ঘনিষ্ঠতা খুব জরুরি অবশ্যই, কিন্তু মানসিক ও যৌন ঘনিষ্ঠতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যৌনতার ক্ষেত্রে বিষয়টা একঘেয়ে হয়ে যেতে দেবেন না। মানসিক ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখতে সারাদিনে অন্তত দশ মিনিট দু’জনে দু’জনের সঙ্গে কথা বলুন।

টাকাপয়সা নিয়ে সমস্যা– পছন্দ করে বেশ একটা শাড়ি কিনে এনেছেন আর স্বামী দেখেই একটা বাঁকা মন্তব্য করলেন। এর পর ঝগড়া না হয়ে পারে? সমীক্ষা অনুযায়ী টাকাপয়সা নিয়েই সবচেয়ে বেশি দাম্পত্যকলহ হয়। দরকারে নিজের খরচের আলাদা অ্যাকাউন্ট রাখুন আর বাড়ির খরচ জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে করুন।

Spread the love