সচেতনতার অভাবেই বাড়ছে কিডনি রোগী

Life24 Desk   -  

বর্তমানে কিডনি রোগ বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য মূলক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আর সচেতনতার অভাবে মূলত এই রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন লোক এই রোগে ভুগছে।

ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজির মতে, বর্তমানে এটি বিশ্বে ১১তম মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবছর বিশ্বে ১.২ মিলিয়ন লোকের মৃত্যু হয় ক্রনিক কিডনি রোগের কারণে। যেটা আবার ষষ্ঠ তম দ্রুত মৃত্যুর প্রধান কারণ।

এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে আরও সচেতন করতে ‘ডায়াবেটিক কিডনি রোগ এবং রেনাল প্রতিস্থাপনে মৃত্যু বিষয়ক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সেমিনার’ শীর্ষক সম্মেলনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দুই মিলিয়ন মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপন এবং ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এর বেশির ভাগই হচ্ছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। অন্যদিকে, গরিব দেশগুলো যেমন- প্রায় ১০০টি দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পেরে কিংবা চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে রোগী। এ কারণে আমাদের এই রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়িয়ে এর প্রতিরোধের দিকে বেশি নজর বাড়াতে হবে।

আমাদের দেশে নানা কারনে লোকেরা কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ক্রনিক নেফ্রিটিসে ৪০ শতাংশ, ডায়াবেটিসের কারণে ৩৪ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে ১৫ শতাংশ। দেশে বর্তমানে ০.৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী এবং ২০ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ রোগী রয়েছে। তাছাড়া ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ আবার ৫ থেকে ১৫ বছর ভোগার পর উচ্চ রক্তচাপের কবলে পড়ে। আর এসব রোগ কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে। এ ধরনের ৪০ শতাংশ রোগী মারা যায়। আবার শুধু উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীরাও কিডনির রোগে পর্যবসিত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের করণীয় কী? সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সরকারি হাসপাতলে এসব রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আছে। মানুষকে নিজের দায়িত্বে সেগুলো জানতে হবে। এবং সেগুলোকে মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এবং চিকিতসকদেরও পরামর্শ নিতে হবে।

Spread the love