সবথেকে বেশিবার অস্কার জিতেছেন যাঁরা

Life24 Desk   -  

সিনেমা জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছে অস্কার জেতা একটা মাইলস্টোন বলা যায়। অস্কারই হল সিনেমা জগতের সবচেয়ে মর্যাদার পুরস্কার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকাডেমী অফ মোশন পিকচার অ্যান্ড সায়েন্সেস অ্যাকাডেমী অ্যাওয়ার্ডস নামের এই পুরস্কারটি দিয়ে থাকে।

অস্কারকে ধরা হয় একজন অভিনয় শিল্পীর কাজের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসাবে। অসাধারণ অভিনয় শৈলি প্রদর্শনের পরেও অনেক শিল্পীর সৌভাগ্য হয় না অস্কারের সোনালী মূর্তিটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখার। আবার অনেক শিল্পী আছেন যাঁরা অস্কার বিজয়ীর মঞ্চে গিয়েছেন একাধিক বার।

আজ আমরা জানবো এমনই কিছু অভিনয় শিল্পীর কথা যাঁরা অস্কার বিজয়ের সংখ্যার দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছেন অন্য সবাইকে।

ওয়াল্টার ব্রেনান- ৩ বার

হলিউডের সবাক চলচ্চিত্রের একদম প্রথম সময়কার শক্তিমান অভিনেতা ওয়াল্টার ব্রেনান। পর্দার পরিচিত মুখ এই ভদ্রলোক ছিলেন এক দুর্দান্ত চরিত্রাভিনেতা। তিনি ইতিহাসের একমাত্র অভিনেতা যিনি তিনবারই অস্কার জিতেছেন সহ-অভিনেতা শ্রেণীতে।

প্রথমবার অস্কার জেতেন ১৯৩৬ সালে ‘কাম অ্যান্ড গেট ইট’ চলচ্চিত্রের জন্যে। দু’বছর বাদেই দ্বিতীয় অস্কার ধরা দেয় ‘কেন্টাকি’ চলচ্চিত্রটির জন্যে। আর ১৯৪০ সালের ‘দি ওয়েস্টার্নার’ চলচ্চিত্রের জন্যে অস্কার জিতে হয়ে যান তিনবার অস্কার জেতা প্রথম অভিনয়শীল্পী।

ক্যাথরিন হেপবার্ন- ৪ বার
সর্বকালের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসাবে পরিচিত ক্যাথরিন হেপবার্ন অস্কার বিজয়ের সংখ্যার দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছেনে অন্য যে কোনও অভিনয় শিল্পীকে। এই অভিনেত্রী চার বার অস্কার পুড়েছেন নিজের ঝুলিতে।

প্রথমবার অস্কার জেতেন ১৯৩৩ সালে। ‘মর্নিং গ্লোরি’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ জিতেছিলেন এই পুরষ্কার। এরপরের বার অস্কার জিততে বেশ ক’বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাঁকে। ১৯৬৭ সালে দ্বিতীয়বার অস্কার জেতেন ‘গেস হুস কামিং ফর ডিনার’ ছবির জন্যে। তৃতীয়বারের অস্কারের জন্যে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। পরের বছরেই ‘আ লায়ন ইন উইন্টার’ ছবির জন্য প্রথম অভিনেত্রী হিসাব জিতে নেন তিনটি অস্কার।

এরপর আবারও একটা বড় সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে অসাধারণ রূপবতী এই অভিনেত্রীকে। ১৯৮১ সালে ‘অন গোল্ডেন পন্ড’ চলচ্চিত্রের জন্যে জেতেন চতুর্থ অস্কার। অভিনশিল্পী হিসাবে তাঁর চেয়ে বেশিবার অস্কার জেতেননি আর কেউই। প্রতিবারই তিনি পুরস্কার জেতেন সেরা অভিনেত্রী ক্যাটেগরিতে।

২০০৪ সালে ‘দি এভিয়েটর’ চলচ্চিত্রে তাঁরই ভূমিকায় অভিনয় করে অস্কার জেতেন আর এক শক্তিশালী অভিনেত্রী কেট ব্লাঞ্চেট।

ইনগ্রিদ বার্গম্যান- ৩ বার
হলিউডের সোনালি যুগের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী ইনগ্রিদ বার্গম্যান। স্বহজাত সৌন্দর্যের অধিকারী এই রূপসী তাঁর অভিনয় গুণ দিয়ে ঠাই করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

১৯৪৪ সালে ‘গ্যাসলাইট’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম অস্কার জেতা এই অভিনেত্রী দ্বিতীয়বার অস্কার জেতেন ১৯৫৬ সালে ‘অ্যানাস্তেসিয়া’ চলচ্চিত্রের জন্য। দু’বারই পুরস্কার জেতেন সেরা অভিনেত্রীর ক্যাটেগরিতে। রহস্য লেখিকা অগাথা ক্রিস্টির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মার্ডার অন দি ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের জন্যে জিতে নেন সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার।

জ্যাক নিকোলসন- ৩ বার
হলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসাবে গণ্য করা হয় জ্যাক নিকোলসনকে। খ্যাপাটে চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে বিখ্যাত এই অভিনেতা অস্কারের জন্যে মনোনয়ন পেয়েছেন ১২ বার। তার চেয়ে বেশি বার মনোনয়ন পাননি আর কেউই।

দুর্দান্ত এই অভিনেতা তাঁর প্রথম অস্কার জেতেন ১৯৭৫ সালের ‘ওয়ান ফ্লিউ ওভার দ্য কুকু’স নেস্ট’ ছবির জন্যে। সেরা অভিনেতার এই পুরস্কার জেতার পর দ্বিতীয় অস্কার জয়ের জন্যে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। ‘টার্মস অফ এন্ডিয়ারমেন্ট’ ছবির জন্যে অস্কার জেতেন সেরা সহ-অভিনেতার শ্রেণিতে।

সর্বশেষ অস্কার জেতেন ১৯৯৭ সালের ‘অ্যাজ গুড অ্যাজ ইট গেটস’ চলচ্চিত্রের জন্যে। এবারও পুরস্কার পান সেরা অভিনেতার ক্যাটেগরিতে। শক্তিমান এই অভিনেতা অবশ্য ২০১০ সালের পর অভিনয় করেননি আর কোনও চলচ্চিত্রে।

মেরিল স্ট্রিপ- ৩ বার
সর্বকালের অন্যতম সেরা অভিনেত্রীদের তলিকায় উপরের দিকেই থাকবেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী। অভিনয়শিল্পী হিসাবে অস্কারের জন্যে মনোনয়ন পেয়েছেন ২১ বার। অন্য কোনও অভিনেত্রী এত বার মনোনয়ন পাননি। এই ২১ বারের মনোনয়নে পুরস্কার জিতেছেন ৩ বার।

১৯৭৯ সালে সেরা সহ-অভিনেত্রী হিসাবে অস্কার জেতেন ‘ক্রেমার ভার্সেস ক্রেমার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্যে। সেরা অভিনেত্রী হিসাবে অস্কার জিততে অপেক্ষা করতে হয় ৩ বছর। ১৯৮২ সালের ‘সোফি’স চয়েস’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্যে জেতেন সেরা অভিনেত্রীর অস্কার। একই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয়বার অস্কার জেতেন ২০১১ সালের ‘দি আয়রন লেডি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যে।

ড্যানিয়েল ডে লুইস- ৩ বার
মেথড অ্যাক্টিং এ অত্যন্ত পারদর্শী ড্যানিয়েল ডে লুইসকে বলা হয় তাঁর প্রজন্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। তিন বার অস্কারের মঞ্চে তাঁকে বিজয়ীর বেশে দেখা গেছে, প্রতিবারই পুরস্কার জেতেন সেরা অভিনেতা হিসাবে। হলিউড ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত রাখতে পারেননি অন্য কোনও অভিনেতা।

১৯৮৯ সালের ‘মাই লেফট ফুট’ চলচ্চিত্রে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে জেতেন তাঁর প্রথম অস্কার। ২০০৭ সালের ‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’ ছবির জন্যে জেতেন তার দ্বিতীয় অস্কার। আর সর্বশেষ ২০১২ সালে স্টিফেন স্পিলবার্গের পরিচালনায় ‘লিংকন’ চলচ্চিত্রে আব্রাহাম লিংকনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে জেতেন নিজের তৃতীয় অস্কার। ২০১৭ সালের ‘ফ্যান্টম থ্রেড’ ছবির পর কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেই এই ব্রিটিশ অভিনেতা।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।