ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারি

Life24 Desk   -  

যারা ইতিহাস ভালোবাসেন বা ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরতে ভালোবাসেন তারা হাতে দু সময় পেলেই ঘুরে আসতে পারেন মুর্শিদাবাদ। স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদাবাদের নাম করলেই হাজারদুয়ারির কথা মনে পড়ে যায়। যদিও হাজারদুয়ারির সঙ্গে কিন্তু সিরাজ-উদ-দৌলার কোনও সম্পর্ক নেই। সিরাজের মৃতু্যর অনেক পরে হাজারদুয়ারি তৈরি করা হয়। এই জায়গার সঙ্গে কলকাতার টাউন হলের আকৃতির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। হাজারদুয়ারিতে এক হাজারের মতো দরজা আছে, সেই থেকেই এই নাম। দরজাগুলোর মধ্যে কিছু আসল আর কিছু নকল। শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচতেই নাকি এমন দরজা তৈরি করা হয়েছিল। এই নকল দরজাগুলো দেখে চট করে বুঝতে পারবেন না কোনটি আসল আর কোনটি নকল। তবে কাছে গিয়ে নিরিক্ষণ করলে বুঝতে পারা যায়। ইঁট-চুন-সুরকির সঙ্গে খয়ের জল, আখের গুড়, ডিমের কুসুম ইত্যাদি ব্যবহার করে নাকি এই দরজাগুলি তৈরি করা হয়েছিল। হাজারদুয়ারির ভেতরে একটি আকর্ষণীয় জিনিস হল সম্রাজ্ঞী ভিক্টোরিয়ার উপহার দেওয়া ১০১ বাতির একটা সুদৃশ্য ঝাড়লন্ঠন। এছাড়া এর ভেতরে আছে নবাব আর ইংরেজদের ব্যবহৃত বহু অস্ত্রশস্ত্র, জিনিসপত্র, বাসনপত্র, আসবাবপত্র, বহু বিখ্যাত শিল্পীদের হাতে আঁকা ছবি, বিলিয়ার্ড বোর্ড, পলাশীর যুদ্ধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ইত্যাদি। এছাড়াও আছে চমকপ্রদ দুটি আয়না। যে আয়না আপনাকে আশ্চর‌্য করবে।

হাজারদুয়ারির ঠিক উলটোদিকে আছে ইমামবাড়া। এটা বাংলার সবচেয়ে বড় ইমামবাড়া। ইমামবাড়াটি বছরের মধ্যে শুধুমাত্র মহরমের সময়ে ১০ দিন খোলা থাকে। এছাড়া সারাবছর বন্ধ থাকে।

এখান থেকে বার হয়ে টাঙ্গায় চেপে চলে আসুন মোতিঝিলে। মোতিঝিল তৈরি করিয়েছিলেন নবাব আলিবর্দী খাঁর জামাই। এখানে একটা হ্রদ আছে যেখানে একসময়ে মুক্তো বা মোতির চাষ হত। সেই থেকেই এটির নাম মোতিঝিল। এখন এটিকে সংস্কার করে আরও সুন্দর বানানো হয়েছে। পার্ক তৈরি হয়েছে, বোটিংয়ের ব্যবস্থাও আছে। এখানে একটা মসজিদ আছে। এই মসজিদের পাশে একটা ঘর রয়েছে যার কোনও দরজা বা জানালা নেই। চারদিকে দেওয়াল আর ছাদটাও ঢাকা। কথিত আছে যে, সিরাজ এক ফৈজীর ওপর রেগে গিয়ে তাঁকে মাঝখানে রেখে এই ঘর তৈরি করান। অনেকে মনে করতেন এইঘরে অনেক ধন সম্পত্তি আছে। কিন্তু এর আশ্চর‌্য শক্ত ইঁটের গাঁথনি কেউ কোনওভাবে ভাঙতে পারেনি। পরবর্তীকালে কোনও একজন সাহেব এইঘরের দেওয়াল কামানের গোলা দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং সেইদিন রাতেই সাহেব মারা যান। তারপর থেকে এইঘরের দেওয়াল ভাঙার চেষ্টা আর কেউ কখনও করেনি। দেওয়ালে কামানের আঘাতের চিহ্ন আজও স্পষ্ট দেখা যায়

এখান থেকে এবার আসুন জাহান কোষা কামান দেখতে। সাড়ে পাঁচ মিটার লম্বা আর চারফুটের মতো পরিধিবিশিষ্ট জাহান কোষা কামান এখানকার দর্শনীয় বস্তু বলা যায়। এর ওজন প্রায় সাত টনেরও বেশি।

কাটরা মসজিদ দেখতে এলে মসজিদের পিছন দিক দিয়ে ঢুকতে হয় কারণ সেখান দিয়েই প্রধান রাস্তা চলে গেছে। কাটরা মসজিদে উপাসনা ছাড়াও ছাত্রাবাস ছিল, যেখানে একসঙ্গে বহু আবাসিক একসঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতে পারত। মসজিদের সামনের দিকে একটা বিশাল চাতাল আছে যেখানে একসময়ে অনেক মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তেন। কাটরা মসজিদের সবচেয়ে আগ্রহজনক বিষয় হল এর প্রবেশ পথের নীচেই আছে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র সমাধি। নবাবের ইচ্ছানুযায়ী মৃতু্যর পরে তাঁকে এখানে সমাধিস্থ করা হয়। নিজের পাপস্খলনের জন্যই নাকি তাঁর এমন নির্দেশ ছিল। এখান দিয়ে ঢুকতেই ডানদিকে ছোট ছোট অনেক কুঠুরি আছে। জানা গিয়েছে একটা সময় সেখানে বসেই ধর্মগ্রন্থ পড়া হত। কাটরা মসজিদের প্রধান উপাসনা গৃহের ছাদে পাঁচটা গম্বুজ ছিল, যার তিনটে ভূমিকম্পে ভেঙ্গে পড়েছে। এখন এর ছাদটা পুরোপুরি অনাবৃত। ভূমিকম্প কাটরা মসজিদের আরও কিছু ক্ষতিও করেছে। মসজিদের চারকোণে চারটে মিনার ছিল যাদের মধ্যে দু ভূমিকম্পে ধূলিসাত্ হয়ে গেছে।

কাটরা মসজিদ দেখে চলে আসুন কাঠগোলা বাগানে। কাঠগোলা বাগানে আছে একটা জৈন মন্দির যার দেওয়ালে নানারকম ভাস্কর্য্য দেখতে পাবেন। সামনে আছে একটি পরিখা বা হ্রদ। এখানেও বোটিংয়ের ব্যবস্থা আছে।

এছাড়াও দেখুন নশিপুর রাজবাড়ি যা খানিকটা হাজারদুয়ারির প্রাসাদের আদলে তৈরি। মুর্শিদকুলি খাঁর কন্যা আজিমুন্নেসার সমাধি, নিমকহারাম দেউরি যা কিনা বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের প্রাসাদ। যেখানে মিরজাফরের বংশধররা আজও বাস করেন। নবাবদের সমাধিক্ষেত্র। এছাড়া একটি স্কুলও আছে।

কীভাবে যাবেন: হাজারদুয়ারি যেতে চাইলে সব চেয়ে সহজ উপায়ে যেতে পারবেন শিয়ালদহ থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জার বা ভাগিরথী এক্সপ্রেস বা হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে। স্টেশনে নেমে গাড়ি বা টাঙ্গা ভাড়া করে হারিয়ে যেতেই পারেন ইতিহাসের আঙিনায়। টাঙায় চেপে ঘোড়ার খুরের আওয়াজ আপনাকেও নবাবী মেজাজ উপলব্ধি করাবে।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।