ওরা ৪২০, তাই ৪২ নয় ৪২০টি আসন পাবে লোকসভা নির্বাচনে, বললেন বিজেপির সায়ন্তন

Life24 Desk   -  

ভোট যত এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর ততই বেড়ে চলেছে। শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধী দল একে অপরের বিরূদ্ধে রাজনৈতিক সুর চড়াচ্ছেন। সব দলই প্রায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছে। আর এই নির্বাচনী প্রচারে প্রতিদিনই একে অপরকে নানা বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি উনিশের লোকসভা নির্বাচনে নিজেদের শক্তিশালী প্রমাণের জন্য সব দলই জানাতে চাইছে, কারা কটি আসনে জিতবে।

তৃণমূল যেমন ইতিমধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছে যে তারা এবার ৪২টা আসনেই জিতবে। যদিও সময়েই জানা যাবে প্রকৃত ফলাফল। শাসক দল  অবশ্য বেশ জোর দিয়েই এই সংখ্যাটি বলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদেরও মত, ভোটের আবহাওয়া যা, তাতে তৃণমূলের বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে তৃণমূলের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু যা বলেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি তৃণমূলকে ফোর টোয়েন্টি বলে অভিহিত করে বলেন, চারশো বিশের দল তৃণমূল। এবারে ওরা কতগুলি আসন পাবে, সেটা সবাই জানে। তিনি আরও বলেন, চারশো বিশের দল লোকসভায় ৪২ নয় ৪২০টি আসন পাবে।

সায়ন্তন বসুর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পালটা তোপ দেগেছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি জানান, বিজেপি কী করবে ভেবে পাচ্ছে না, তার জন্য বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলছে। উল্লেখ্য, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মতুয়াদের একাংশের আহ্বানে ঠাকুরনগরে সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই সভাকে কেন্দ্র করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ব্যঙ্গ করে বলেন, মোদি সভা করতে এলেও মতুয়াদের মন পাবে না বিজেপি। তিনি আরও জানান যে, বিজেপি ঘৃণ্য রাজনীতি করছে, মতুয়ারা কিছুতেই বিজেপির এই ধরনের কাজকে সমর্থন করবে না।

পাশাপাশি বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়েননি মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বিজেপি–র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে নিয়ে মেয়র বলেন, ‘‌টিভি সিরিয়াল করেন। আবার মন্ত্রীও হয়েছেন। তা–ও কয়েক মাসই থাকবেন। উনি হোমওয়ার্ক না করে, ইতিহাস না জেনে বাংলার বুকে সভা করেছেন।’

তাঁর এই ধরনের মন্তব্যে বিজেপিও ছেড়ে কথা বলেনি। তাঁদের দাবি সায়ন্তন বসু যদি বেফাঁস মন্তব্য করেন, তাহলে ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্যকে কী বলা হবে? তৃণমূলের বিরূদ্ধে সুর চড়িয়ে তারা জানিয়েছেন, অনুব্রত মণ্ডল তো হামেশাই নানা রকম বেফাঁস মন্তব্য করেন। অতীতে তাপস পালের মন্তব্য নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। যে দলের নেতা-মন্ত্রীরা এই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন, তারা ঠিক কীরকম মানসিকতার, সেটা বুঝতে সাধারণ মানুষের বাকি নেই বলেও বিজেপির নেতাদের মত।

Spread the love