‘নেতাজিকে হত্যার পরিকল্পনা স্ট্যালিন ও নেহেরুর’

Life24 Desk   -  

নেতাজির মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছিল তা নিয়ে এখনও প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। এত বছর পরেও নেতাজির মৃত্যু রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে নানা সময় নানা রকম কথা বলা হয়েছে। কখনও প্রচার হয়েছে তিনি বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, আবার কখনও অন্য কথা বলা হয়েছে।

তাঁর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত তিনটি কমিশন নিযুক্ত করা হয়েছে- শাহনওয়াজ কমিটি (1956), খোসলা কমিশন (1970) এবং মুখার্জি কমিশন (1999)। প্রথম দুই কমিশন জানিয়েছিল যে, 1845 সালের 18 আগস্ট জাপানের দখলকৃত তাইপেই বিমানবন্দরে তাইহোকু বিমানবন্দরে নেতাজি একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। যদিও মুখার্জি কমিশন (1999)-এর মত ছিল ভিন্ন। এই কমিশন দাবি করে, নেতাজি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি। আশ্চর্যজনকভাবে, সরকার মুখার্জি কমিশনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে।

প্যারিসের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী 1945 সালে-এর 18 আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়। যদিও ইতিহাসবিদ জেবিপি মোরে ফ্রান্সের গোপন পরিষেবার তথ্যের ভিত্তিতে 1947 সালে 11 ডিসেম্বর একটি রিপোর্টে জানান, নেতাজি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি। ইতিহাসবিদ মোরে সেই এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আবিষ্কার করেন যে নেতাজি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি বরং 1947 সালেও জীবিত ছিলেন।

এই সমস্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে নিশ্চিত যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু নিয়ে যা প্রচার হয়েছিল তা সত্য নয়। বরং সত্যটি গোপন করা হয়েছে বলেও অনেকে দাবি করেন। নেতাজির পরিবারের পক্ষ থেকেও এই দাবি করে বারবার সত্য উদঘাটনের কথা বলা হয়েছে।

গতকাল বর্ষিয়ান বিজেপির নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রামানুয়ান স্বামী নেতাজির মৃত্যুর বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। রবীন্দ্র শববর শঙ্কর ভবনে আয়োজিত এক সংস্কৃতিক সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে স্বামী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, 1945 সালে নেতাজি মারা যাননি এবং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যুর প্রচারের তত্ত্বটি সম্পূর্ণ ভুল। নেতাজি 1947 সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং সেই সময় রাশিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন, এবং সেখানেই তাঁকে পরে হত্যা করা হয়েছিল।

সুব্রামানিয়ান স্বামী আরও বলেন, রাশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জোসেফ স্ট্যালিন এবং ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে “খুন” করার পরিকল্পনা করেন।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, “বসু 1945 সালে মারা যাননি। এটা ভুল। এটি নেহরু এবং জাপানিজের ষড়যন্ত্র ছিল। সুভাষচন্দ্র বসু রাশিয়ার আশ্রয় চেয়েছিলেন এবং আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। জওহরলাল নেহেরু সবকিছু জানতেন। পরে, নেতাজিকে হত্যা করা হয়।

স্বামীর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যে চাঞ্চল্য় তৈরি হয়েছে। এতগুলো বছর কেটে গেলেও এখনও নেতাজির মৃত্যুরহস্যের কিনারা না হওয়ায় তিনি দাবি করেন, মহামান্য আদালত এই রহস্যের কিনারা করুক এবং নেতাজির মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছিল তার সঠিক তথ্য সকলের সামনে হাজির করুক। এখন দেখার এরপরও গ্রেট লিডার নেতাজির মৃত্যু নিয়ে সমস্ত জল্পনা দূর হয় কিনা।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।