রোড শোয়ে ঝড় প্রিয়াঙ্কার, উত্তরপ্রদেশে ভোটের হিসেব কী পাল্টাবে?

Life24 Desk   -  

আজ তো অনেকে বলেই দিলেন, ইনি পরবর্তী ইন্দিরা গান্ধি। সবুজ-সাদা চেক কাটা হালকা রঙের সালোয়ার। গলায় জড়ানো ওড়নাটা সামনে ঝোলানো। লখনউ বিমানবন্দরের যখন বাইরে এলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা, তখন চারিদিকে মানুষের ঢেউ। পাশে দাদা রাহুল। চার দিক থেকে ভেসে যাচ্ছে শঙ্খধ্বনিতে। উড়ে আসছে ফুলের পাঁপড়ি।

এরপর লখনউ বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বাসের ছাদে সওয়ার হয়ে রোড শো শুরু করলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। তাঁকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দিয়েছে দল। সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম উত্তরপ্রদেশে এলেন প্রিয়াঙ্কা। ধামাকাদার রোড শো দিয়েই তিনি ঢুকে পড়লেন লোকসভা ভোটের ময়দানে।

৩০ কিলোমিটার রোড শো করলেন তিনি। উল্লেখ্য, রবিবার রাত থেকেই তাই গোটা পথটাই মুড়ে ফেলা হয়েছিল ফ্লেক্স-ব্যানারে। যে পথে রোড শো করবেন প্রিয়ঙ্কা, সোমবার সকালে তিনি পৌঁছনোর অনেক আগে থেকেই কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন সেই সব রাস্তায়। কারও হাতে পোস্টার। কারও হাতে ফুল। কারও হাতে শঙ্খ। মহিলারা উলুধ্বনি দিচ্ছেন। কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটা উৎসবের আমেজ।

এদিন রোড শেতে  রাহুল গান্ধি, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, রাজ বব্বর-সহ অনেকেই। শুরু করলেন রোড শো। নিরাপত্তার জন্য সাদা সেই বাসের ছাদটা ঘেরা রেলিং দিয়ে। সেই ঘেরোটোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে কর্মী সমর্থকদের দিকে হাত নাড়লেন প্রিয়ঙ্কা, কখনও জোড় হাতে প্রণাম জানালেন। বাকিরাও বাসের ছাদ থেকে হাত নাড়তে থাকেন।

যে বাসে প্রিয়াঙ্কা ছিলেন তার সামনে গোলাপি জামা পরে এগিয়ে যাচ্ছিল ‘প্রিয়ঙ্কা সেনা’র ৫০০ সদস্য। তাঁদের জামায় প্রিয়ঙ্কার ছবি, হিন্দিতে লেখা, ‘দেশের সম্মানে প্রিয়ঙ্কাজি ময়দানে, মন দেব, সম্মান দেব, প্রয়োজনে দেব জীবনও’।

এই রোড শো শেষে বক্তৃতা দেওয়ার কথা প্রিয়াঙ্কার। বক্তৃতা দেওয়ার কথা রাহুলেরও। কিন্তু তার আগে রোড শো থেকেই মোদীকে খোঁচা দিতে ভোলেননি রাহুল।

সনিয়া গান্ধি আর ভোটে না দাঁড়ালে রায়বেরিলি থেকে সপা-বসপার সমর্থনে প্রিয়াঙ্কার জয় প্রায় নিশ্চিত। গত ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল মোদী-হাওয়ার মধ্যেও এই কেন্দ্রে প্রায় ৬৪% ভোট পেয়েছিলেন সনিয়া গান্ধী। এই কেন্দ্রে সপা প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও বসপার প্রার্থী ছিল সেখানে। এবার সেখানে বসপাও সম্ভবত কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না। তাই এই কেন্দ্রে প্রিয়াঙ্কা প্রার্থী হলে খুব বেশি বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।

তবে সব থেকে খেলা জমবে যদি মোদীর বিরুদ্ধে বারাণসীতে লড়াই করেন তিনি। এই কেন্দ্রে গতবার নরেন্দ্র মোদী পেয়েছিলেন ৫৬% ভোট। ফলে বিরোধীরা এককাট্টা হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বনাম প্রাক্তন দুই প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে আর নাতনির লড়াই দেখার জন্যে মুখিয়ে থাকবে সারা দেশ। পূর্ব উত্তরপ্রদেশে প্রিয়াঙ্কার দায়িত্ব নেওয়া হয়তো সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। রাহুল তো গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতিতে পুরো সময়ের কর্মী। নিশ্চয় এবারও আমেথি থেকে লোকসভা ভোটে লড়বেন এবং জিতবেন।

এই মুহূর্তে কংগ্রেস নিজে থেকে কী ভাবে দেড়শো আসন পেতে পারে সে চিত্র কিন্তু আদৌ পরিষ্কার নয়। সম্ভবত সেই জন্যেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মাঠে নামাতে দেরি করেনি কংগ্রেস নেতৃত্ব। ভোটের আর বড়োজোর মাস চারেক দেরি। তাই হাওয়া তোলার এটাই উপযুক্ত সময়।

পরিবারতন্ত্র নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে তিরিশটির মতো নির্বাচনে হারলেও, সম্প্রতি হিন্দি বলয়ে তিনটি রাজ্যে বিধানসভায় জিতে রাহুল গান্ধিকে অনেক বেশি পরিণত দেখাচ্ছে। আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধি রাহুলের থেকেও বেশি উজ্জ্বল, অনেক ভালো হিন্দি বলেন, জনগণের সঙ্গে মিশতে পারেন সহজাত দক্ষতায় এবং সর্বোপরি তাঁর হাবেভাবে ঠাকুমার বৈশিষ্ট্য আছে অনেকটাই।

Spread the love