রাহুলের মঞ্চ কেড়ে নিচ্ছেন মমতা?

Life24 Desk   -  

সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ে ভোটে জেতার পর রাহুল গান্ধি জাতীয় রাজনীতিতে অনেকটাই ওপরে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বনাম রাহুল গান্ধির লড়াই এখন লোকসভা ভোটের আগে গোটা দেশের রাজনীতিকে তোলপাড় করছে। কিন্তু শেষ কয়েক দিনে কংগ্রেস সুপ্রিমোর পালের হাওয়া কেড়ে নিজের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নৌকায় বাতাস জুড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড এবং তারপর ৩ ফেব্রুয়ারি ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না। মোদী বিরোধী রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তা তিনি যতই ধর্না মঞ্চ থেকে বলুন না কেন, “দেশ কা হর আদমি পিএম বনেগা”। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরোধীদের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু মমতাই তাদের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি এনআরসি, সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট, আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণকর বিমা থেকে শুরু করে সারদা কান্ডে সিবিআইয়ের পদক্ষেপের মতো একাধিক ইস্যুতে মোদী এবং কেন্দ্র সরকারের চরম বিরোধিতা করেছেন।

বিষয়টা এমন জায়গাতে পৌঁছেছে যে মৌসম নূরের মতো কংগ্রেস নেত্রীকে ভাঙিয়ে নিজেদের দলে নেওয়ার এক সপ্তাহ না কাটতেই রাজ্য নেতাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অযাচিত সমর্থন দিচ্ছেন রাহুল গান্ধী।

রাজ্য বিজেপির হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও বাংলায় তাদের রথযাত্রা (বিজেপির দাবি মতো গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা) রুখে দিয়েছেন মমতা। মোদী থেকে যোগীর মতো বিজেপির স্টারদের সভা করার জন্য জমি দেওয়া কিংবা হেলিকপ্টার নামাতেও বাধা দিয়েছে মমতা-সরকার। স্বাভাবিকভাবেই মোদীবিরোধী জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ মমতা। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীত্বের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরতে সফল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

অন্যদিকে, সংসদ ভবনে বুধবার তৃণমূল সাংসদদের ধর্নার কর্মসূচি ছিল। সেখানে হাজির হন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি। দলের সাংসদদের সঙ্গে প্রতিবাদ মিছিলেও পা মেলান তিনি।

কিন্তু যন্তরমন্তরে রাহুলের আসার সম্ভাবনা কতটা? দিল্লিতেও কি ‘বেঙ্গল লাইন’ নেবেন কংগ্রেস সভাপতি? ১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগড সভা তথা ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’তে নিজে যোগ দেননি। কিন্তু দলের দুই নেতা মল্লিকার্জুন খড়গে এবং অভিষেক মণু সিঙ্ঘভিকে পাঠিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই সেই সময় ব্রিগেডের সভায় রাহুল যোগ দেননি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেই সময় ব্যাখ্যা করেছিলেন।

যন্তরমন্তরে সভার উদ্যোক্তা আম আদমি পার্টি (আপ)। রাজধানীর রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে আপের ‘তিক্ত’ সম্পর্কের কথাও কারও অজানা নয়। ফলে লোকসভা ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে এবং রাতারাতি সেই তিক্ততা ভুলে রাহুল গান্ধি যন্তরমন্তরের বিরোধী মঞ্চে চলে আসবেন, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। আর এখানেই ব্রিগেডের মতো প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে থাকার সম্ভাবনা উঠে আসছে। সেক্ষেত্রে শ্যাম এবং কূল দুই-ই রক্ষা হবে। পর্যবেক্ষকদের অন্য একটি অংশ অবশ্য সম্ভাবনা এক্কেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। দিল্লিতে সংসদ ভবনের বাইরে তৃণমূল সাংসদদের ধর্নাতে এদিন যোগ দেন রাহুল গান্ধি। আবার দু’দিন আগেই দিল্লিতে চন্দ্রবাবুর অনশন মঞ্চে সশরীরে পৌঁছে গিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এসেছিলেন রাহুল।

সমাজবাদী পার্টি (এসপি), বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এখানে এসেই ধারে-ভারে মমতার ব্রিগেডের চেয়ে কেজরিওয়ালের ডাকা যন্তরমন্তরের সভার ওজন বাড়িয়েছে।

Spread the love