স্যানিটারি ন্যাপকিন কতটা ‘স্বাস্থ্যকর’?

Life24 Desk   -  

ওই বিশেষ পাঁচদিনের বিড়ম্বনা অনেক মহিলাকে অনেক সময়েই আটকে দেয় ইচ্ছে মতো কাজ করা থেকে। ব্যবহৃত ন্যাপকিন কোথায় ফেলবেন তা নিয়ে তৈরি হয় সমস্যা।  অনেকের পরিবারে সেখানে ‘স্যানিটারি ন্যাপকিন’ মানে বিলাসিতা। তাদের সংসারের মাসিক খরচের মধ্যে সঙ্কুলান করা সম্ভব হয় না এই ‘একান্ত প্রয়োজনীয়’ সামগ্রীর। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যাপার। কিন্তু তার ধাক্কা সমলাতে সময় লেগে যাবে পাঁচশো বছর। হ্যাঁ। এমনই এক হিসেব দাখিল করেন পরিবেশবিদরা। ঋতুচক্রকালে ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড থেকে এই জটিল হিসেবে আসছেন পরিবেশ-ভাবুকরা। তাঁদের কথামতো একটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের পৃথিবীর মাটিতে মিশে যেতে সময় লাগে ৫০০ বছর।

স্যানিটারি ন্যাপকিন পৃথিবীর মাটিতে জমে তা ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে মিশে যাবে। ভূগর্ভস্থ জল বিষিয়ে গেলে কী হতে পারে, তা নিশ্চয়ই কারোর অজানা নয়। স্যানিটারি ন্যাপকিন বা ডায়াপারের মতো প্রোডাক্টের প্যাকেটের কোথাও নির্মাতারা এমন কোনও ডিক্ল্যারেশন রাখেননি, থা থেকে তা তৈরির উপাদানগুলি সম্পর্কে জানা যায়। তার উপরে এই ধরনের প্রোডাক্টের রং সর্বদাই ধবধবে সাদা। হাইজিনের প্রতীক হিসেবেই এই সাদা রং। কিন্তু এই সাদাটি তৈরি করতে ঠিক কী পরিমাণ ক্লোরিন ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানারও কোনও উপায় নেই। সেই সঙ্গে প্রায় প্রতিটি প্রোডাক্টেই ব্যবহৃত হয় সুগন্ধী। যার উৎসটিও ‘প্রাকৃতিক’ নয়। এপ

পরিবেশের দিকে তাকিয়ে কি সরে আসা যায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বা ডায়াপারের ব্যবহার থেকে? মেডিক্যাল অ্যাপ্রুভড সিলিকন থেকে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে ‘মে মেনস্ট্রুয়াল কাপ’। ১৮ বছর বয়সের পর থেকে যে কোনও মেয়েই এটি ব্যবহার করতে পারেন। আর এটি বার বার ব্যবহার করাও যায়। এতে কোনও রকম স্বাস্থ্যহানির বা সংক্রমণের ভয়ও নেই।

এর বাইরে একেবারে প্রাকৃতিক উপায়েও তৈরি হতে পারে স্যানিটারি ন্যাপকিনের পরিবর্তে। ক্লথ প্যাড তার মধ্যে অন্যতম। না এই প্যাড স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো সাদা নয়। রঙিন কাপড় দিয়েই তৈরি হয় এই প্যাড। ৪-৫ ঘণ্টা কার্যকর থাকে এই প্যাড। এখানে তুলোর বদলে কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে হয়েছে, ব্যবহার করা হয়েছে ওয়াটারপ্রুফ ক্লথ, যা ৪ মাসের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

Spread the love