জেনে নিন ঘটকের সঙ্গে কথা বলার সময় কী কী মাথায় রাখতে হবে

Life24 Desk   -  

প্রতি রবিবার খবরের কাগজ বাড়িতে এলে ইদানিং পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপন দেখাটা কি আপনার বাড়ির নিয়ম হয়ে উঠেছে? ইতিমধ্যেই সবক’টা বিয়ের ওয়েবসাইটেও কি প্রোফাইল বানিয়ে ফেলেছেন? ছুটির দিনের দুপুর মানেই কি ইনবক্সে উপুড় হয়ে সুপাত্র বাছা চলছে? এখনও এই রাজ্য সহ গোটা ভারতেই সম্বন্ধ করে বিয়ে একটি যথেষ্ট প্রচলিত ব্যবস্থা এবং বাড়ির মেয়ের জন্য বাবা-মা এবং অন্য অভিভাবকস্থানীয়রা পাত্র দেখবেন, এটাই মেনে নেওয়া হয়। একসময় মেয়ে বিবাহযোগ্য হলে বাড়ি থেকে ডাক পড়ত ঘটকদের। এখন তাঁদের জায়গাটা দখল করে নিয়েছেন পেশাদার ম্যাচমেকারেরা। খবরের কাগজে পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপন বা ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েবসাইটের চেয়ে এই ম্যাচমেকারেরা একটু হলেও এগিয়ে থাকেন কারণ সে ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে কেমন পাত্র পছন্দ সেটা বুঝিয়ে দেওয়া যায়।

আপনিও যদি নিজের বিয়ের জন্য ম্যাচমেকারের সাহায্য নিতে চান, স্বচ্ছন্দে নিতে পারেন। কারণ তাঁরা আপনার আর আপনার পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী লাখে একটা পাত্র এনে হাজির করার ক্ষমতা রাখেন। শুধু মাথায় রাখুন কয়েকটা ছোট্ট পয়েন্ট!

ধৈর্য ধরে থাকুন: ম্যাচমেকারের কাছে গেলেন আর তিনি রাতারাতি আপনার জন্য রাজপুত্তুর খুঁজে এনে হাজির করলেন, ব্যাপারটা ঠিক এতটাও সহজ নয়! তাঁরা আপনাকে একের পর এক পাত্রের প্রোফাইল দেখাবেন, আপনাকেও ওঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে। মনে রাখবেন তাড়াহুড়ো করলে আপনার ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি!

সবরকম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি থাকুন: ম্যাচমেকারেরা আপনাকে নানারকম প্রশ্ন করবেন। আপনার খাদ্যাভ্যাস, ধর্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক বিশ্বাস, পছন্দ, অপছন্দ, মাসিক আয়, অভ্যেস ইত্যাদি। এতে বিরক্ত হবেন না। আপনার উত্তরের ভিত্তিতে ওঁরা সঠিক পাত্র খুঁজে বের করবেন, তাই সহযোগিতা করুন।

চেকলিস্ট নিয়ে কঠোর না হওয়াই ভালো: কেমন পাত্র পছন্দ সে ব্যাপারে যে চেকলিস্টটা বানিয়েছেন তাকে দুটো ভাগে ভাগ করে নিন। এক, কোন বিষয়গুলো না হলে চলবেই না আর দুই, কোনগুলো নিয়ে একটু নরম হওয়া যায়। আপনার চেকলিস্ট যত কঠোর হবে, সম্ভাব্য পাত্রের সংখ্যা তত কমে যাবে। এতে পছন্দসই পাত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা রাখবেন না: ম্যাচমেকার রাতারাতি আপনার জন্য রাজপুত্র এনে হাজির করতে পারবেন না এটা যেমন ঠিক, তেমনি তিনি যাঁকে আনলেন তাঁর সঙ্গেও যে আপনার দারুণ মনের মিল হবে তেমনটা নাও হতে পারে। এমনও দেখা যায় সব দিক দিয়ে রাজযোটক হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে টেকেনি। তাই প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

নিজের কথা স্পষ্ট করে জানান: কোনও পাত্রকে পছন্দ হলে সে কথা ম্যাচমেকারকে জানান। তেমনি কাউকে ভালো না লাগলে সেটাও জানান এবং কেন ভালো লাগেনি সেটাও স্পষ্ট করুন। তাতে ম্যাচমেকারের পক্ষে কাজটা আর একটু সহজ হবে।

ম্যাচমেকারকে সম্মান করুন: মাথায় রাখুন, আপনার ম্যাচমেকার একজন পেশাদার এবং তিনি আপনাকে সাহায্য করার সবরকম চেষ্টা করছেন। তিনি নিজের কাজে সফল হতেও পারেন, নাও হতে পারেন। কিন্তু সেই সাফল্যের মাপকাঠিতে ওঁর প্রতি আপনার আচরণ পালটাবেন না। ওঁকে, ওঁর পেশাকে সম্মান করুন ও সেইভাবে কথা বলুন।

Spread the love