সোস্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল প্রার্থী মিমি আর নুরসতের মিম কি বিকৃত কামনার বহিঃপ্রকাশ?

Life24 Desk   -  

লোকসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী নুসরত জাহান ও মিমি চক্রবর্তী। তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পরেই মানুষের আলোচনা অন্যদিকে ঘুরে গিয়েছে। রাজনীতি না বুঝেই মানুষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা। শুরু হয়েছে ব্যক্তি আক্রমণ।

যাদবপুরে টলিউডের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা করা হয়। আর বসিরহাটে নুসরত জাহান। আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে নুসরত জাহান কিংবা মিমি চক্রবর্তীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তাঁদের যোগ্যতা নিয়েও। কিন্তু এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু যদি অন্য কিছুকে ঘিরে আবর্তিত হতে শুরু করে, তবে তা মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে। দেখা যাচ্ছে চায়ের ঠেক থেকে শুরু করে ট্রেনের কামরা, অফিসের জানলা থেকে নিয়ে বাড়ির বারান্দা— ছোট বড় সকলের মুখে আলোচনার বিষয় মিমি এবং নুসরত।

চটকদার সব মিম বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া চলছে। আঠারো থেকে ও আটানব্বই সবাই গিলতে শুরু করেছে সেই চটুল মিমগুলো। আর হাসির ফোয়ারা বেরিয়ে পড়েছে। আজকাল কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধিতা করতে হলে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো খাপ পঞ্চায়েত বসে যায়! মিমি, নুসরতও এখন সেই খাপের অংশবিশেষ।

যারা মিমি আর নুসরতকে নিয়ে নোংরা মিম বানিয়ে মজা নিচ্ছে, তাদের নিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার— কিছু মানুষ হয়ত মিমি এবং নুসরতের রাজনৈতিক যোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতার দিকে আলোকপাত করছে। কিন্তু বেশিরভাগই যেটা করছে সেটা মনের মধ্যে পুষে রাখা একটা বিকৃত কামনার বহিঃপ্রকাশ। নিজেদের মনের কোণে পুষে রাখা অভিনেত্রী নারীদের প্রতি কামনার লোলুপ দৃষ্টি তাদের মনের মধ্যে লুকিয়ে ছিল এতদিন। এই ঘটনার পর তা যেন স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

মিমি বা নুসরত সবেমাত্র ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা যদি সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে জেতেন‌, তার পরেও যদি জনগণ তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্য কাজ না পায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তা হবে তাঁদের রাজনীতিতে অযোগ্যতার প্রমাণ। কিন্তু তার আগেই এই আক্রমণের অর্থ কী?

আমাদের ভারতে বর্তমানে বিজেপি শাসিত এমন অনেক রাজ্য রয়েছে যেখানে এমন ঠুঁটো জগন্নাথ বসে আছে, যারা জনগণের জন্য কাজ না করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার ব্যাপারে সদাই তৎপর। এক জন মানুষ অভিনয় করেন বলেই তিনি কোন‌ও দিন রাজনীতিতে আসবেন না, এমন ভাবনাটাই অবান্তর। কেউ এক জন জন্মেই ভাল এবং দক্ষ রাজনৈতিক নেতা হয়ে যান না। তাঁকে জনগণের ভালবাসা অর্জন করতে হয় জনহিতকর কাজের মধ্যে দিয়ে।

মিমি আর নুসরতের বিভিন্ন সিনেমার ছবি পোস্ট করে তাতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য লেখা চলছে। এক জন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের কবর খুঁড়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করার মধ্যে দিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির চর্চা করা সম্ভব নয়, এটাও মনে রাখা দরকার। এক জন নারীকে কীভাবে প্রতি মুহূর্তে অপমানিত করা যায়, সামাজিকভাবে ধর্ষিত হতে হয় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ সমাজ মাধ্যমে শেয়ার হতে থাকা এই সব মিম!

Spread the love