সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা যতটা মানবিক বাস্তবে কি ঠিক ততটাই?

Life24 Desk   -  

প্রতিদিন প্রতিনিয়ত সভ্যতা ধাপের পর ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে পালটে যাচ্ছে মানুষের চাহিদা বা প্রয়োজনীয় উপকরণসামগ্রী। প্রযুক্তি এগোচ্ছে ক্রমাগত। মানুষ এখন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর। এই জীবনযাত্রায় অনেক নতুন অভ্যাস তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। সেই অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম সোশ্যাল মিডিয়াতে কানেক্টেড থাকা। মানুষের জীবনে সোশ্যাল মিডিয়া এখন এমন একটা মাধ্যম, যেটা মোবাইলের ছোট্ট উইন্ডো বা কম্পিউটারের স্ক্রিন একটা পরিবারের মত বা খানিকটা সোসাইটির মত। সেখানেও ভালোলাগা আছে, খারাপলাগা আছে, আছে আলাপ আলোচনা; তবে তা পুরোটাই যন্ত্রনির্ভর। নিমেষের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি করা যাচ্ছে এক গোলার্ধ থেকে আর এক গোলার্ধে। বাধা কিছু নেই। মনের কথা শেয়ার করার জন্য কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট। তাই আজকের জীবনযাত্রার খুবই গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ হল এই মাধ্যম। কোনো বিষয় নিয়েও আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের অন্যতম মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা পরিসর আছে, আছে সম্পর্ক গড়ে ওঠা, বন্ধুত্ব, অন্যায়ের প্রতিবাদ, বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাড়াবার প্রতিশ্রুতি। তবে প্রশ্ন হল সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা যতটা মানবিক দেখাই নিজেদের বাস্তবে কি ঠিক ততটাই মানবিক আমরা?

নাকি সোশ্যাল মিডিয়া আর বাস্তবের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে বিরাট ফারাক? সেই নিজেই এই বিতর্ক।

তনিমা ঘোষ (ছাত্রী): সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা যতটা মানবিক দেখাই নিজেদের অতটা আমরা নই। আসলে ভার্চুয়াল জগতটা নিজেদের অন্যভাবে প্রকাশ করার একটা অন্যতম মিডিয়াম। কোথাও নারী নির্যাতন হয়েছে শুনে যারা ছিঃ ছিঃ করেন তাদের মনে কিন্তু একটা লোলুপ প্রবৃত্তি কোথাও না কোথাও সুপ্ত থাকে। আসলে পুরোটাই নিজেকে প্রজেক্ট করার ব্যাপার। কোন খারাপ ঘটনা ঘটলে যারা কলেন্টে লিখছেন ‘সমবেদনা জানাই’, তারা যে কী সমবেদনা জানাতে চান তারাই জানেন। আসলে সোশ্যাল মিডিয়া মানে একটা ফর্মালিটি। তার সাথে বাস্তবের ফারাক অনেক, আর মানবিকতার কোনো প্রশ্নই আসে না।

রুমুন চক্রবর্তী (গৃহবধূ): আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেদের যতটা মানবিক দেখাই আদতে আমরা ততটা মানবিক নই। সোশ্যাল মিডিয়াতে যখন আমরা আসি তখন আমাদের অবচেতনে একটা চিন্তা কিন্তু সবসময় কাজ করে যে আমাকে প্রচুর মানুষ একসঙ্গে দেখছে। এটা প্রতিটা মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি যে, একটা ভাল মানুষ হিসেবে সবার সামনে নিজেকে উপস্থাপিত করা। এই চিন্তার বশবর্তী হয়েই সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে আমরা সবসময় ভালো ভালো কথা বলি। আমাদের মত দয়ালু, আমাদের মত নির্ভীক, আমাদের মত সোশ্যাল রিফর্মার আর দ্বিতীয়টি যেন আর কেউ হয় না। কারণ আমরা জানি ঐ ভালো ভালো কথাগুলো বললে সামনের মানুষগুলোর কাছে নিজের খুব ভালো একটা ছবি আঁকতে পারব। কিন্তু সেই মানুষটা যখন সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে অর্থাৎ বাস্তবে এসে দাঁড়াচ্ছে তখন সহজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী তার লাভ-ক্ষতিগুলোই বড় হয়ে দেখা দেয়। সেখানে মানবিক মূল্যবোধের কোন জায়গা নেই। হয়তো যে মানুষটি সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ কাউকে ঠকিয়েছে জেনে, অতগুলো মানুষের কাছে নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরির জন্য বলছেন, ‘এটা খুব জঘন্য ব্যাপার, এই সমস্ত মানুষদের আমি ঘেন্না করি’; সেই বাস্তবে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাউকে না কাউকে ঠকাচ্ছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়াতে যে মুখ আমরা দেখি বাস্তবে তা আকাঙ্খা করা নির্বুদ্ধিতার সমান। এই ভার্চুয়াল জগতে মানবিক রূপ দেখালে তার অনেক সাক্ষী থাকে। আর না দেখালে তারও সাক্ষী থাকে। কিন্তু বাস্তব জগতে আমরা কতটা খারাপ হচ্ছি, কতটা অমানবিক হচ্ছি, তাতো পুরোটাই আড়াল।

সুপ্রিয় হাজরা (অধ্যাপক): আমাদের জীবনের সাথে সোশ্যাল মিডিয়া এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে ওটা বাদ দিয়ে এখনকার জীবন অসম্পূর্ণ। এখনকার মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও চলবে কিন্তু ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট থাকাটা আবশ্যিক। এবার আসি মানবিকতার প্রসঙ্গে, আসলে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা যে মানবিকতা দেখাই তার বেশিরভাগটাই কৃত্রিম, লোক দেখানো। অনেকের ক্ষেত্রে হয়তো উনিশ-বিশ হয় তবে সে সংখ্যা খুবই কম। মূলত ঐ জগতটা এমন একটা জগত যেখানে নিরপেক্ষ থাকাটা, লোকের কাছে নিজেকে ভালো প্রমান করাটাই মানুষের বেশি প্রেফারেবল বলে মনে হয়। তবে এমন উদাহরনও আমার জানা আছে যেখানে একটি অসুস্থ বাচ্চার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত বেশ কিছু মানুষ মিলে।

কৌশিক পাল (আইটি কর্মী): আমার মনে হয় এই মিডিয়াম অনেক বেশি কপ্লিকেটেড। আর মানবিকতার প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হবে ভালো খারাপ দু’ধরনের মানুষই তো আছে। অনেকে হয়তো সিমপ্লি ফর্মালিটির জন্য কোনো বিপদে পড়া মানুষকে বলে দেন যে পাশে আছি, তবে এমন মানুষও আছেন যারা সত্যিই বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ান। বাস্তব বা ভার্চুয়াল এই ব্যাস্ততার যুগে মানবিকতা শব্দটা দু’জায়গাতেই অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। মানুষ নিজেকে নিয়েই এত ব্যস্ত অন্যকে নিয়ে ভাববার সময় কোথায়!

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।