পৃথিবীর কিছু রহস্যময় স্থান

Life24 Desk   -  

পৃথিবী যতটা সুন্দর ঠিক ততটাই রহস্যময়। আর এই রহস্যময় পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান আছে যে স্থানগুলির সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও সম্পূর্ণ তথ্য জোগাড় করতে পারেননি। তবে বিজ্ঞানীরা এই স্থানগুলোর রহস্য উদঘাটনের জন্য সব সময় চেষ্টা করে চলেছেন। পৃথিবীর এরকম তিনটি রহস্যময় স্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

ডোর টু হেল, তুর্কমেনিস্তান
তুর্কমেনিস্তানের কারাকুম মরুভূমিতে অবস্থিত দোয়াজ গ্রামে। এই গ্রামে একটা গর্ত রয়েছে যেখানে গত ৪৭ বছর ধরে আগুন জ্বলছে। পৃথিবীর মানুষের কাছে নরকের দরজা হিসাবে পরিচিত এই গর্ত। আসলে এই গর্ত প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ স্থান। ১৯৭১ সালে সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজে এসেছিলেন৷ দোয়াজ গ্রামে খনন করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। খনন শুরুর কিছু সময় পর উপরের অংশ ভেঙে পরে যায় এবং বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়। যা ২০০ ফুট চওড়া, ৬৬ ফুট গভীর। ফলে প্রচুর পরিমাণ মিথেন গ্যাস বের হতে থাকে, যা মানুষ এবং প্রকৃতি উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। এর আউটপুট বন্ধ করা প্রয়োজন ছিল, তাই বিজ্ঞানীরা এই গর্তে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিল সপ্তাহ খানেক এই আগুন জ্বলবে। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত করে ৪৭ বছর যাবৎ আগুন জ্বলে চলেছে। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এই গর্ত দেখতে আসেন।

মীর মাইন, সাইবেরিয়া

সাইবেরিয়াতে অবস্থিত মীর মাইন একসময় বিশ্বের সব থেকে বড় হীরের খনি ছিল। এখান থেকে ১ কোটি ক্যারেট হীরে প্রতি বছর তোলা হতো। হীরে শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত এক গর্তে পরিণত হয় এই স্থানটি। এটার গভীরতা ১৭২২ ফুট, চওড়া প্রায় ৩৯০০ ফুট। সুরক্ষার কারণে বর্তমানে মীর মাইলের ওপর নো ফ্লাইং জোন ঘোষণা করা হয়েছে। গর্তের ওপর দিয়ে যখন হেলিকপ্টার যায় তখন হেলিকপ্টারকে কোনও শক্তি নীচের দিকে টেনে ধরে। তবে বিজ্ঞানীদের মত, মীর মাইন খুব গভীর হওয়ার কারণে খনির নীচের বায়ু ভূ-অভ্যন্তরের উষ্ণতার কারণে গরম হয়ে হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে আসে। আর এই শূন্যস্থান পূরণের জন্য ওপরের বায়ু নীচে নেমে যায়। বায়ুর এই ওঠা নামার কারণে খনির ওপরে ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। তাই ওই স্থানের ওপরে গেলে হেলিকপ্টার কিছুটা নেমে যায়।

ইস্টার দ্বীপ, চিলি

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপে মানুষের মতো দেখতে মূর্তির জন্য খুবই বিখ্যাত। এই মূর্তিগুলো ১২ ফুট থেকে ৩৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা। মূর্তিগুলোর শীরের বেশিরভাগ অংশ মাটির নীচে। শুধুমাত্র মাথা ও বুকের কিছু অংশ মাটির ওপরে। চিলির মূল ভূখণ্ড থেকে ৩৫০০ কিমি দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপে প্রায় ১০০০ হাজার মূর্তি রয়েছে। মূর্তিগুলো পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছিল। সাতটি বৃহৎ আকারের মূর্তি এই দ্বীপের মূল আকর্ষণ। এগুলোকে নেভাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড বলা হয়। ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো এই দ্বীপকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এই নির্জন দ্বীপে কারা কি উদ্দেশ্যে এই মূর্তিগুলো স্থাপন করেছিল তা আজও জানা যায়নি।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।