সফল কেরিয়ার বাছার পদ্ধতি

Life24 Desk   -  

কেরিয়ার তৈরির সময় চাকরি খোঁজা বা চাকরি বদল, দুটোই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাকরি খোঁজা কিংবা চাকরি বদলে খুব একটা সুবিধা পাওয়া যাবে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা দরকার। সেই সঙ্গে নিজের কেরিয়ারের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। চাকরি-জীবনের পটভূমি এখন অনেকটাই নতুন। আগের মতো এখন অনেক কিছুই নেই। খুব বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে আমাদের জীবন। তাই কেরিয়ার গড়তে সঠিক কৌশলটি সময়মতো অ্যাপ্লাই করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

খুব বেশি আগের কথাও নয়, কোন পেশাটি জীবনের পথচলাকে সহজ করবে এবং নিজের কাজের জগতে ক্রমাগত উন্নতি সম্ভব, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব হতো। আমাদের প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার, আইনজীবী ইত্যাদিতে পরিণত করতে আমাদের অভিভাবকরা নানা ভাবে চেষ্টা করতেন। আর সেই চেষ্টা সুনির্দিষ্ট পথে এগিয়েও দিতেন। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণ করতে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যই যথেষ্ট নয়। তবে এই অনিশ্চয়তাকে পরিবর্তন করাটাও কঠিন নয়।

কর্মপরিকল্পনার জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ৩টি বিষয়কে সঠিকভাবে অনুধাবন করা গেলে এই সময়ের সাথেও তাল মিলিয়ে নিজের ভবিষ্যত্কে উজ্জ্বল করা খুব বেশি কঠিন কাজ হবে না।

প্রথমত, প্রযুক্তির দৌলতে যে কোনও জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা এবং একটি ভার্চুয়াল দলের অংশ হওয়া।

দ্বিতীয়ত, ব্যবসা ক্রমবর্ধমানভাবে চুক্তিভিত্তিক কাজে পরিণত হচ্ছে। নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত লোকের চেয়ে এখন চুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করার দিকেই নজর দিচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে নির্দিষ্ট সময়ে অল্প খরচে ভালো কাজও পাওয়া যায়। আর যাঁরা চুক্তিভিত্তিক কাজ করে থাকেন, তাঁদের মধ্যেও থাকে ভালো কাজ দেওয়ার একটা প্রতিযোগিতা।

তৃতীয়ত, আমাদের নিজস্ব চাহিদারও পরিবর্তন ঘটেছে। স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও এখন আমরা অনেক বেশি উদ্বিগ্ন থাকি।

উপরের এই তিনটি বিষয় নিয়ে যদি আমরা একটু মনোযোগী হই, তাহলে হয়তো অনেক প্রশ্নই তৈরি হবে। কোন পথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, আমার সময়টুকু আমি কোথায় ব্যয় করব, অনলাইনে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের মুখোমুখি হব নাকি অন্য কোনও গ্রুপের সঙ্গে কাজ করব, নাকি নিজেই একটি গ্রুপ তৈরি করব, কাজ কি আউটডোর নির্ভর হবে নাকি ইনডোর, আমার স্বপ্নের কাজের জায়গাটা কী– এসব প্রশ্ন তখন আসতেই পারে সামনে।

আমরা যখনই কোনও চাকরি পরিবর্তন করি, তখন অবশ্যই আমরা এমন চাকরিই খুঁজি যেটা আর্থিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খানিকটা মানসিক তৃপ্তি অর্জনেও সহায়তা করে। যদি আপনি আসলেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতে চান, তাহলে আপনার সেই কাজটিই করা উচিত যে কাজের ওপর আপনার দক্ষতা রয়েছে এবং সেই কাজের প্রতি ভালোবাসাও রয়েছে। তাহলেই বাজারে কাজের প্রতিযোগিতায় আপনি এগিয়ে থাকতে পারবেন। কারণ কাজের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে ভালো কাজ দিতে হবে। আর এসব সম্ভব তখনই যখন কাজের প্রতি আপনার ভালোবাসা বেশি থাকবে।

এবার প্রশ্ন হতে পারে, কোন দিকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে? বিভিন্ন ধরনের কেরিয়ার আমাদের আশপাশে রয়েছে। এগুলোর যে কোনওটা আপনি চাইলেই ইচ্ছেমতো বেছে নিতে পারবেন না। প্রথমত, যে কাজটি আপনি করতে চান, সেই কাজ সম্পর্কে আপনার স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। তাই যে কাজে আপনার ধারণাটা অন্য সব কাজের থেকে একটু বেশি স্পষ্ট এবং যে কাজের প্রতি আপনার আকর্ষণ বেশি, সেটিকেই বাছাই করে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এবার যদি কেরিয়ার নির্ধারণ করা হয়ে যায়, তাহলে এই কেরিয়ারকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার যাবতীয় পথগুলো সম্বন্ধে অবগত হন। কীভাবে কাজ করলে এই কেরিয়ারে দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব, সেটা আপনাকে জেনে নিতে হবে। কাজের প্রতি অনুভূতি নিয়ে ভাবার পাশাপাশি লক্ষ্য পরিবর্তন হতে যাচ্ছে কি না তা নিয়েও ভাবতে হবে।

এবার ভাবনা আসতেই পারে, এই কেরিয়ারে কীভাবে উন্নতি করা যাবে, কিংবা এর ভবিষ্যত্ কতদূর। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির জন্য বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। যেমন–প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের অভাব, প্রতিনিয়ত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা না করে একই উপায়ে কাজ করে যাওয়া প্রভৃতি। উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাবও আপনার কেরিয়ারকে স্থিতিশীল করে দিতে পারে। এর মধ্যে কোনটিতে আপনি আক্রান্ত, সেটা খুঁজে বের করুন এবং সেই অনুযায়ী সমাধানের রাস্তা বের করুন।

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, যখন আপনি কর্মজীবনের উন্নতি নিয়ে হতাশা বোধ করবেন, ঠিক সেই সময়টিই ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। কাজেই কর্মজীবনে কোনও একটি স্থানে আটকে গেলে সেই আটকে যাওয়ার কারণটি খুঁজে বের করুন এখনই। কিংবা বর্তমান কর্মজীবনকে বিদায় দিতে অন্য কোনও দিকে নিজের মনোযোগ বদলে নিন। নিজের কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্য কোন কাজে আপনার দক্ষতা রয়েছে, তা আত্মানুসন্ধান করুন। তারপর সুযোগ বুঝে সেই নতুন ক্ষেত্রেও নিজেকে নিয়োগ করতে পারবেন। প্রতিযোগিতার এই সময়ে অল্পতে ঘাবড়ে গেলে চলবে না। যে কোনও পরিস্থিতি সামনে আসলে তা মোকাবিলা করতে শিখুন।

কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পেঁৗছতে সামর্থ্য ও গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ করা প্রয়োজন। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কাজটি করা কিন্তু সাফল্যের অন্যতম একটি শর্ত। কাজ করতে গিয়ে যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, নিরুত্সাহিত হওয়া যাবে না। লক্ষ্যে স্থির থাকা দরকার।

Spread the love

আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগাজিন ‘Life24’-এ আপনিও লিখতে পারেন এই ম্যাগাজিনের উপযুক্ত যে কোনও লেখা। লেখার সঙ্গে পাঠাবেন উপযুক্ত ২-৩টি ফটো। লেখা পাঠাবেন ইউনিকোডে টাইপ করে। ইউনিকোড ছাড়া কোনও লেখাই গ্রহণ করা হবে না। লেখা ও ফটো পাঠাবেন editor.life24@gmail.com আইডি-তে। কোন সেগমেন্টের লেখা পাঠাচ্ছেন, তা মেলের সাবজেক্টে অবশ্যই লিখে দেবেন। আর অবশ্যই মেলে আপনার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাবেন।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে খুব কম খরচে আপনার পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানার জন্য মেল করুন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।

Life24 ওয়েব ম্যাগাজিনে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপনি একেবারেই বিনামূল্যে দিতে পারবেন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। এই বিভাগের যে কোনও সেগমেন্টের জন্য ৫০ শব্দের মধ্যে ইউনিকোডে লিখে মেল করে দিন advt.bearsmedia@gmail.com আইডি-তে।  মেলের সাবজেক্টে লিখে দেবেন 'শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন'।

# 'Life24' ওয়েব ম্যাগাজিন বা এই ওয়েব ম্যাগাজিনের লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত লিখে জানান নিচের কমেন্ট বক্স-এ। আর হ্যাঁ, ম্যাগাজিনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের।