টলিউড থেকে জোড়া চমক ১৯-এর নির্বাচনে

Life24 Desk   -  

দেবের ঠিক পাঁচ বছর পরে লোকসভা নির্বাচনে টলিউড থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লোকসভা নির্বাচন লড়বেন নুসরত জাহান এবং মিমি চক্রবর্তী। লোকসভা নির্বাচনে এমনই একটা চমক তৈরি হয়েছিল আগেও। এবার নুসরত-মিমিও সেই তালিকায় শামিল। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুবই প্রিয় পাত্রী। এবার এঁরা নিজেদের ইউএসপি ভোটের ময়দানে কীভাবে কাজে লাগান, সেটাই দেখার। ভোটের ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী দু’জনকে দাঁড় করিয়ে তাঁর ব্যালান্সিং অ্যাক্টেরও পরিচয় দিলেন বলে ইন্ডাস্ট্রির গুঞ্জন।

নুসরত নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন এ কথা প্রায় এক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছিল। তবে মিমির ক্ষেত্রে সরাসরি লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণায় অবাক হয়েছেন অনেকেই। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত দেরি করায়, সে জায়গায় ব্যাকস্টেজে থালিগার্ল হিসেবে নুসরতের নাম বিবেচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও শেষ মুহূর্তে ঋতুপর্ণা পৌঁছে যান। আবার দিদির বাড়ির অনুষ্ঠানে মিমি দীর্ঘক্ষণ হাজির থাকতেও দেখা যায়।

নুসরত-মিমি একে অপরের সাথে এতটাই হৃদ্যতা যে বোনু বলে ডাকেন। ভুলেও প্রকাশ্যে একে অপরকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন না। বাস্তবে অবশ্য তাঁদের সম্পর্ক এতটা মধুর নয় বলেই শোনা যায়। এসভিএফ কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে নুসরত তাঁর প্রতিপত্তি খাটাতেন। মিমি তখন পিছনের সারিতে। সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে। একটা সময়ে নুসরতের সঙ্গে শ্রীকান্তের তিক্ততা চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছয় এবং এসভিএফ থেকে অভিনেত্রীর প্রস্থান ঘটে। মিমি আবার নিজের জায়গা ফিরে পান। কিন্তু এর মাঝেও তাঁরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে গিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব প্রদর্শনও চলছিল।

মিমি জানান যে এটা অপ্রত্যাশিত! তবে দিদি যখন তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন, চেষ্টা করবেন সেটা পালনের। তিনি এখন থেকেই তৈরি। আর কেরিয়ারের কী হবে? সারা জীবন মাল্টিটাস্কিং করে এসেছি। দুটো দিক সামলাতে অসুবিধে হবে না। এদিকে নুসরত বলেন, তিনি হকচকিয়ে গেছেন। মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। তবে মানুষের পাশে থাকতে চান, মানুষের জন্য কাজ করতে চান।

আপাতদৃষ্টিতে রাজনীতির সঙ্গে ফিল্ম কেরিয়ারের বিরোধ না থাকলেও ইতিহাস অন্য কথা বলছে। অমিতাভ বচ্চন পর্যন্ত এর নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হয়েছিলেন। যে কারণে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেন। সাংসদ হওয়ার পরে দেব প্রযোজনা সংস্থা খুলেছেন। অনেক ছবি করছেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে তাঁর কোনও ছবি কি সুপারহিট হয়েছে? দেবের রাজনীতিতে আসা এবং বাংলা কমার্শিয়াল ছবির ভরাডুবি প্রায় এক সঙ্গেই। হয়তো এটা সমাপতন। কেরিয়ারের প্রশ্নে নুসরত যদিও এই মুহূর্তে ব্যাকফুটে। সেই তুলনায় মিমি শক্ত জমির উপরে দাঁড়িয়ে। এই দুই নায়িকার ফোকাস যদি এখন রাজনীতি হয়, তা হলে প্রভাব কতটা পড়বে টলিউডে?সেই দেখার।

Spread the love