বিজেপি প্রার্থীকে খুনের চেষ্টা, অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে

Life24 Desk   -  

লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই আসরে নেমে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।  ভোটের বৈতরনী পার হতে ইতিমধ্যেই তাদের প্রচারও শুরু করে দিয়েছে। আর তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বিক্ষিপ্ত অশান্তি। যদিও এবার লোকসভা ভোটের প্রায় মাসখানেক আগেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও যাতে অশান্তি না হয় এবং সুষ্ঠভাবে নির্বাচন হয় তার জন্য কলকাতা সহ অন্য জেলায়গুলিতে টহল দিলেও বিক্ষিপ্ত অশান্তি অব্যাহত রয়েছে।

লোকসভা ভোটের এতদিন আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয়বাহিনীর আশা নিয়ে সরব হয়েছিলেন শাসক দলের কিছু নেতা কর্মীরা। তারা দাবি করেছিলেন, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই রাজ্য যথেষ্ট শান্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলি দাবি করেছিল, এই রাজ্যে শান্তির পরিবেশ নেই। রাজ্য বিজেপির শীষর্স্থানীয় নেতা সহ বাম-কংগ্রসের একাধিক নেতারা এই রাজ্যকে অত্যন্ত সেনসেটিভ রাজ্য বলে ঘোষণা করারও দাবি করেন। কার্যত তাদের এই দাবি যে মিথ্যে নয় তা আরও একবার প্রমানিত হয় রবিবারের ঘটনায়।

ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের কর্মীসভা চলাকালীন নীলাঞ্জন রায় ও তাঁর সঙ্গে থাকা দলীর কর্মীদের খুনের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযাগ করে বিজেপি। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থানার পূজালির কাছে রথতলায়। বজবজ পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে ওই দুষ্কৃতীদল বিজেপির প্রার্থী-সহ নেতা-কর্মীদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার কথা বিস্তারিত জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীন বজবজ থানার রথতলায় রবিবার বেলা বারোটা থেকে কর্মীদের নিয়ে একটি সভা ডাকা হয়। স্থানীয় একটি হল ভাড়া করে ওখানেই নির্বাচনী কর্মিসভা চলছিল। সাড়ে বারোটা নাগাদ বেশ কিছু দুষ্কৃতী লাঠি, লোহার রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই হলের সামনে এসে জড়ো হয়। বজবজ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ মনসুরের নেতৃত্বে ওই দুষ্কৃতীদল সেখানে দাঁড়িয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে উত্তেজনাকর স্লোগান দিতে শুরু করে।

নীলাঞ্জনবাবুর আরও অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতীদল তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা বিজেপি নেতা-কর্মীদের খুনের হুমকিও দেয়। পরে দুষ্কৃতীরা তাঁদের ওই স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ারও নির্দেশ দেয়।

বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা (পশ্চিম) জেলা সহ-সভাপতি সুফল ঘাঁটু জানিয়েছেন, ওই কর্মিসভায় তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলীয় প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়-সহ জেলার সভাপতি অভিজিৎ দাস, রাজ্য বিজেপি নেতা হরিকৃষ্ণ দত্ত এবং স্থানীয় কর্মীরা। দুষ্কৃতীরা প্রার্থী-সহ তাঁদের সেখানে আক্রমণের উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি আরও জানান, রবিবার ওই এলাকায় তাঁদের বাড়ি বাড়ি প্রচারের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ওই দুষ্কৃতীরা থাকায় দীর্ঘক্ষণ তাঁরা ওই হলঘর থেকেই বের হতে পারেননি। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে আনে। এর ফলে ওই এলাকায় থাকা সমস্ত কর্মসূচি তাঁরা বাতিল করতে বাধ্য হন।

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কোন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা তৃণমূল নেতা শক্তি মণ্ডল জানিয়েছেন, বিজেপির প্রার্থী, নেতা বা কর্মী কাউকেই কোনও হুমকি দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে ও নিজেদের প্রচারের আলোয় আনতে বিজেপি চমকের রাজনীতি করছে। তবে এসব চমক দিয়ে ভোটে জেতা যায় না, ভোটে জিততে গেলে মজবুত সংগঠনের প্রয়োজন হয়।

 

Spread the love