হোয়াটসঅ্যাপ ভারতে থাকতে নাও পারে

Life24 Desk   -  

লোকসভা ভোটের আগে প্রাদেশিক ভাষায় ভুয়ো প্রচার রুখতে এই চেষ্টা। গোটা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েই কড়া হয়েছে সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য বেশ কিছু নতুন আইন নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও ভুয়ো খবর ছড়ানো এবং তার জেরে অশান্তি তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। বিষয়টি রুখতে নয়া আইন নিয়ে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকেও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রথমেই বিধিসম্মত সতর্কীকরণ দিয়েছে ইতিমধ্যেই। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন বিষয় ও বিজ্ঞাপনদাতা সংক্রান্ত তথ্যই শুধু জানানো হবে।

অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার আরেক অন্যতম মাধ্যম হলো হোয়াটসঅ্যাপ। আর হোয়াটসঅ্যাপকে যদি নতুন আইন মেনে ভারতে ব্যবসা করতে হয়, তবে সম্পূর্ণ ভোলবদল করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তারা জানিয়েছেন, তা কার্যত কতটা সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ভারতীয় বাজারে এই নয়া আইন বলবৎ হলে হোয়াটসঅ্যাপের কঠিন হয়ে পড়বে টিকে থাকা। ফলে ভারতীয় বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে হতে পারে বলেই আশঙ্কা করেছেন হোয়াটসঅ্যাপ কর্তারা এবং এক উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিক।

হোয়াটসঅ্যাপ সংস্থার কর্তা কার্ল উগ বুধবার নয়াদিল্লিতে জানান, কেন্দ্রীয় নীতিতে প্রস্তাবিত ওই বিধিনিষেধে সব চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, বার্তার উৎস জানার উপরে। এ দিকে, হোয়াটসঅ্যাপ এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’-কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকে। ফলে অসুবিধায় পড়বে হোয়াটসঅ্যাপ সংস্হা।

ভারত, হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবসার অন্যতম বড় বাজার। এই মুহূর্তে বিশ্ব জুড়ে অন্তত ১৫০ কোটি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। তার মধ্যে ২০ কোটি ব্যবহারকারীই ভারতের। ফলে হোয়াটসঅ্যাপ সংস্হার ব্যবসাতেও কোপ পড়তে পারে। ফলে ভারতীয় বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদেরও অসুবিধায় পড়তে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় অন্যতম মাধ্যম। সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ বিশেষ গুরুত্ব দেয় যে বিষয়ে, তা হলো প্রেরক ও গ্রাহক ছাড়া কোনও তৃতীয় ব্যক্তি সেই বার্তাটি যাতে দেখতে পারেন না। গোটা পৃথিবী ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকে আরও জোরাল করতে চাইছে। ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোয়াটসঅ্যাপও সেই দিশা মেনেই চলছে।

Spread the love